বিনোদন জগতের বহুমুখী ব্যক্তিত্ব বেং স্টিলার, অভিনেতা, চিত্রনাট্যকার, প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে পরিচিত, সম্প্রতি রাশিয়ান প্রতিবাদী আলেকজান্ডার মোলোচিনকভের ১৭ মিনিটের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘এক্সট্রিমিস্ট’‑এর এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। এই চলচ্চিত্রটি ৯৮তম একাডেমি পুরস্কার অনুষ্ঠানের লাইভ‑অ্যাকশন শোর্ট ক্যাটেগরিতে নামের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
স্টিলার তার ক্যারিয়ারে ‘ডজবল’, ‘মিট দ্য ফকর্স’, ‘জুল্যান্ডার’, ‘ট্রপিক থান্ডার’ এবং ‘সেভারেন্স’‑এর মতো হিট ছবিতে অভিনয়, লেখালেখি, প্রযোজনা ও পরিচালনা করেছেন। তার বহুমুখী কাজের পাশাপাশি তিনি তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সাহসী ও প্রভাবশালী গল্পকে সমর্থন করার জন্য পরিচিত।
মোলোচিনকভের ‘এক্সট্রিমিস্ট’ রাশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতাকে ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে স্বৈরশাসন ও স্বাধীনতার মূল্যকে তীব্রভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি রাশিয়ার ২০২২ সালের ইউক্রেন আক্রমণকে কেন্দ্র করে গৃহস্থালির পণ্যের দাম ট্যাগে বিরোধী বার্তা বসিয়ে প্রতিবাদ করা এক তরুণ শিল্পী সাশা স্কোচিলেনকোর গল্প বলে।
সাশা স্কোচিলেনকো, যাকে ভিক্টোরিয়া মিরোশনিচেনকো অভিনয় করেছেন, তার এই ছোটো প্রতিবাদকে রাশিয়ার ‘ফেক নিউজ’ আইন অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তাকে রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে গৃহস্থালির দাম ট্যাগে যুদ্ধবিরোধী নোটিশ বসানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয় এবং তাকে দীর্ঘ সময়ের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সাশা শেষ পর্যন্ত আগস্ট ২০২৪-এ আন্তর্জাতিক বন্দী বিনিময়ের মাধ্যমে মুক্তি পায়। মোলোচিনকভের মতে, শুটিংয়ের সময় সাশা এখনও কারাগারে থাকলে তার নিরাপত্তা নিয়ে বড় উদ্বেগ ছিল। তাই চলচ্চিত্রের শুটিং লাটভিয়ায় করা হয়, যাতে রাশিয়ান কাস্ট ও ক্রু নিরাপদ থাকে।
শুটিংয়ের ঠিক আগে সাশা মুক্তি পায়, যা মোলোচিনকভের জন্য একধরনের আধ্যাত্মিক সমন্বয় বলে মনে হয়। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি ভেবেছিলাম হয়তো এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে সংযোগ আছে।” এই সমন্বয় তাকে চলচ্চিত্রের সঠিক দিকনির্দেশনা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
মোলোচিনকভ আরও জানান, তার আরেকজন বন্ধু, একজন থিয়েটার পরিচালক, এখনও রাশিয়ার কারাগারে বন্দী। তিনি বলেন, “আমি অবশ্যই সেই বন্ধুর গল্পকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরতে চাই।” তার মতে, সত্যিকারের নায়ক ও ন্যায়বিচারকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মুক্তি দেওয়া সম্ভব।
বেং স্টিলার এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে যোগদান করার পর “এই চলচ্চিত্রে আমার নাম যুক্ত করা একটি সম্মান” বলে প্রকাশ করেছেন। তিনি তরুণ নির্মাতাদের সাহসী কাজকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছাতে সহায়তা করার গুরুত্বকে তুলে ধরেছেন।
‘এক্সট্রিমিস্ট’ রাশিয়ার রাজনৈতিক দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে, যা আন্তর্জাতিক দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে। এই ধরনের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দমনমূলক শাসনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমী ও তরুণ নির্মাতাদের জন্য এই প্রকল্পটি একটি উদাহরণস্বরূপ মডেল হতে পারে, যেখানে আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি পাওয়া যায় এবং সামাজিক পরিবর্তনের জন্য শিল্পের শক্তি ব্যবহার করা হয়।
‘এক্সট্রিমিস্ট’ অস্কার প্রার্থী হওয়ায় রাশিয়ার দমনমূলক নীতি ও মানবিক সংগ্রামের গল্প বিশ্ব মঞ্চে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে, এবং বেং স্টিলারের মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীর সমর্থন এই বার্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।



