যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী প্রতিবাদে চার দিন ধরে বন্ধ থাকা ইন্টারনেট পরিষেবা পুনরায় চালু করতে তিনি ইলন মাস্কের সঙ্গে আলোচনা করবেন। ইন্টারনেট বন্ধের ফলে তথ্য প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে; ট্রাম্পের মতে, মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট-ভিত্তিক স্টারলিঙ্ক সেবা এই সমস্যার সমাধানে সক্ষম।
ট্রাম্প উল্লেখ করেন, মাস্কের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং তার প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ইরানে দ্রুত সংযোগ ফিরিয়ে আনার জন্য উপযুক্ত। তবে স্টারলিঙ্কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে মাস্ক বা স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
ইরানে গত বৃহস্পতিবার থেকে ইন্টারনেট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়, যা ২০২২ সালের পর ধর্মীয় শাসনবিরোধী সর্ববৃহৎ প্রতিবাদের সময়ও দেখা গিয়েছিল। এইবারের প্রতিবাদটি ২৮ ডিসেম্বর দামের বৃদ্ধির বিরুদ্ধে শুরু হয় এবং দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছে, ফলে কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহের অস্থিরতায় ৪৯০ জন প্রতিবাদকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছে। ইরান সরকার এখনও এই সংখ্যার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প এবং মাস্কের সম্পর্ক অতীতের তহবিল সংগ্রহ ও নীতি সমর্থনের পরেও ওঠানামা দেখেছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুনরায় শক্তিশালী হয়েছে। একই মাসে ট্রাম্পের মার-অ-লাগো রিসোর্টে মাস্কের সঙ্গে একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়া দেখা গিয়েছিল। এছাড়া, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের টেক্সাসে স্পেসএক্সের একটি সুবিধা পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইরানে ২০২২ সালে, মাশা আমিনির মৃত্যুর পর বিস্তৃত প্রতিবাদে, বাইডেন প্রশাসন স্টারলিঙ্কের মাধ্যমে ইরানীয়দের জন্য ইন্টারনেট সেবা চালু করেছিল। একই প্রযুক্তি ইউক্রেনের যুদ্ধকালে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এখন ট্রাম্পের উদ্যোগে স্টারলিঙ্কের ব্যবহার ইরানের বর্তমান সংকটে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে, যদিও আন্তর্জাতিক আইনি ও কূটনৈতিক বাধা এখনও রয়ে গেছে।
প্রতিবাদকারীরা ইন্টারনেট বন্ধের ফলে তথ্যের প্রবেশাধিকার হারিয়ে ফেলেছে, যা তাদের সংগঠন ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাকে সীমিত করেছে। ট্রাম্পের এই উদ্যোগ যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে ইরানের নাগরিক সমাজের যোগাযোগের স্বায়ত্তশাসন পুনরুদ্ধার হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারির নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। তবে স্টারলিঙ্কের সরাসরি ব্যবহার নিয়ে ইরান সরকারের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রক বাধা কীভাবে সমাধান হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।



