জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় জোটে আসন ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধ বাড়ছে, ফলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (ইএবি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) জোট ত্যাগের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। জোটের মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামী ভোট একত্রিত করে এক বাক্সে আনা, তবে সমঝোতা না হওয়ায় দুই দলই শর্ত পূরণ না হলে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু জানিয়েছেন, যদি সমঝোতা না হয় তবে তারা জোটে অংশ নিতে পারে না। একই সময়ে ইএবির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক উল্লেখ করেছেন, বিকল্প পরিকল্পনা তাদের হাতে রয়েছে এবং তা কার্যকর করা হবে যদি আসন ভাগের বিষয়টি সমাধান না হয়।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ আশাবাদ প্রকাশ করে বলেছেন, দুই দিনের মধ্যে বিষয়টি সমাধান হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি জোটের ঐক্য বজায় রাখতে দ্রুত সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই জোটের সূচনা হয়েছিল পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি নিয়ে, যেখানে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আটটি ধর্মভিত্তিক দল একত্রিত হয়। জোটে অন্তর্ভুক্ত ছিল জামায়াতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) এবং অন্যান্য ছোট দল।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিকটে এলে, এই মোর্চাকে নির্বাচনী জোটে রূপান্তর করার আলোচনা শুরু হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও এলডিপি, এবং পরবর্তীতে এ বি পার্টি এই জোটে যোগদানের ঘোষণা দেয়। তবুও, আসন ভাগাভাগি নিয়ে ইএবির সঙ্গে জামায়াতের মতবিরোধ প্রকাশ পায়।
প্রতিটি দলই নিজস্ব দাবি অনুযায়ী প্রার্থীর সংখ্যা নির্ধারণ করতে চায়। জামায়াতে ইসলাম ২৭৬টি ও ইএবি ২৬৮টি আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। মিডিয়ার রিপোর্টে দেখা যায়, ইএবি তাদের দাবিকৃত দেড়শের বেশি আসন না পেলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩৫টি আসনে প্রার্থী দাখিল করতে চায়। তবে জামায়াতের নেতৃত্বে থাকা দলগুলো এই দাবিকে স্বীকার করেনি।
অন্যান্য জোটের সদস্যদের মধ্যেও আসন নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রাথমিকভাবে ৫০টি আসন চেয়েছিল, তবে সমঝোতার পর শেষ পর্যন্ত ১৩টি আসনে রাজি হয়েছে। একই দল ২৫টিরও বেশি আসন চাওয়ার পরেও কেবল পাঁচটি আসনে সন্তুষ্ট হয়েছে। নেজামে ইসলাম ও খেলাফত আন্দোলন দুটো করে আসন নিশ্চিত করতে পেরেছে, আর বিডিপি ও জাগপা প্রত্যেকটি এক করে আসন পেয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে। যদি দুই দিন মধ্যে সমঝোতা না হয়, তবে ইএবি ও এ বি পার্টি জোট ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যা জোটের ভোটভিত্তিক শক্তিকে দুর্বল করবে। বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন, জোটের ভাঙ্গন হলে নির্বাচনী পরিসরে ইসলামিক ভোটের বিভাজন ঘটতে পারে এবং প্রধান দলগুলোর জন্য নতুন কৌশল গড়ে তুলতে হবে।
অধিকন্তু, জোটের অভ্যন্তরীণ বিরোধের ফলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়তে পারে, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। জোটের নেতৃত্ব এখন দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে দলগুলোর দাবিকে সমন্বয় করে একসাথে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করবে, নতুবা জোটের কাঠামোই ভেঙে পড়তে পারে।
এই জোটের আসন ভাগাভাগি সমস্যার সমাধান না হলে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন জোট গঠন, স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে পুনরায় জোটবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। নির্বাচনের আগে এই বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান হবে, তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভোটারদের সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।



