অ্যাপল ইনক. ২০২৫ সালে তার সেবা বিভাগে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে বলে জানায়। সিইও-র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এডি কিউর ব্লগ পোস্টে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একই বছরে গড়ে ৮৫০ মিলিয়ন ব্যবহারকারী অ্যাপ স্টোরে সক্রিয় ছিলেন, যা ২০২৪ সালের ৮১৩ মিলিয়নের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
অ্যাপ পে মাধ্যমে মার্চেন্ট বিক্রয় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি পৌঁছেছে, আর অ্যাপল টিভির মাসিক ব্যবহার ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে, অ্যাপল মিউজিক শোনার সংখ্যা ও নতুন সাবস্ক্রাইবারে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে তুলেছে, যদিও স্ট্রিমিং বাজারে স্পটিফাই দীর্ঘদিনের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
অ্যাপল স্টোরের পেমেন্ট মডেলও এই বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। ২০০৮ সালে চালু হওয়ার পর থেকে কোম্পানি মোট ৫৫০ বিলিয়ন ডলার ডেভেলপারদের কাছে পেমেন্ট করেছে বলে প্রকাশিত হয়েছে। পূর্বে ২০২১ সালে এই সংখ্যা ২৬০ বিলিয়ন ডলার, আর ২০২০ সালে ২০০ বিলিয়ন ডলার ছিল।
অ্যাপ স্টোরের মৌলিক কমিশন কাঠামো ৩০ শতাংশ, তবে বার্ষিক আয় এক মিলিয়ন ডলারের নিচে থাকা ছোট ডেভেলপারদের জন্য এটি ১৫ শতাংশে কমানো হয়েছে। এই নীতি ডেভেলপার ইকোসিস্টেমকে সমর্থন করার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির মুখেও রয়েছে।
বহু আন্তর্জাতিক আদালত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা অ্যাপলকে একচেটিয়া বাজারের দায়িত্বে অভিযুক্ত করেছে। বিশেষ করে অ্যাপ স্টোরের কমিশন নীতি ও অ্যাপল ইকোসিস্টেমের বন্ধনকে মনিটর করা হচ্ছে।
অ্যাপল টিভি ডিসেম্বর ২০২৫-এ সর্বোচ্চ দর্শকসংখ্যা রেকর্ড করেছে। নতুন সিরিজ ‘প্লুরিবাস’ ও ‘দ্য স্টুডিও’ পাশাপাশি ‘সেভারেন্স’ ধারাবাহিকের ধারাবাহিক সাফল্য এই বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।
ক্রীড়া স্ট্রিমিং ক্ষেত্রেও অ্যাপল টিভি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। মেজর লিগ সকার ও ফর্মুলা ১-এর সঙ্গে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করে ক্রীড়া কন্টেন্টের পরিসর বাড়ানো হয়েছে।
ফর্মুলা ১-সম্পর্কিত চলচ্চিত্র ‘F1’ অ্যাপল স্টুডিওসের সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র হিসেবে রেকর্ড করেছে, যা হলিউডের সুপরিচিত অভিনেতা ব্র্যাড পিটের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ বক্স অফিস অর্জনও হয়েছে।
অ্যাপল তার সেবা বৃদ্ধির পেছনে ‘সিং’ নামে একটি ক্যারাওকে-সদৃশ ফিচারকে উল্লেখ করেছে। গাড়ি নির্মাতা জিএম ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান চেজের সঙ্গে অংশীদারিত্বও ব্যবহারকারীর সম্পৃক্ততা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
শাজাম অ্যাপের মাসিক স্বীকৃতির সংখ্যা এক বিলিয়নের বেশি, যা সরাসরি অ্যাপল মিউজিকের ব্যবহার বাড়াতে সহায়তা করেছে বলে কোম্পানি দাবি করে।
সামগ্রিকভাবে, অ্যাপল ২০২৫ সালে তার সেবা পোর্টফোলিওতে ব্যবহারকারী সংখ্যা, আর্থিক লেনদেন ও কন্টেন্ট ভিউয়িংয়ের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এই সাফল্য কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী কৌশল ও ডেভেলপার ইকোসিস্টেমের সমর্থনের ফলাফল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অ্যাপল ভবিষ্যতে আরও নতুন ফিচার ও কন্টেন্ট পার্টনারশিপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করতে পরিকল্পনা করছে, যা মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, ডিজিটাল পেমেন্ট ও স্ট্রিমিং সেবার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করবে।



