27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎকে চরম সন্ধিক্ষে ঘোষণা

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎকে চরম সন্ধিক্ষে ঘোষণা

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের সম্পদে হস্তক্ষেপের নতুন হুমকিের পর দেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকটে অবস্থান করিয়ে দিয়েছেন। তিনি ওয়াশিংটন ডি.সিতে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক খনিজ সরবরাহ সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলনের আগে এই মন্তব্য করেন, যেখানে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ কেন্দ্রীভূত।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের ফলে ডেনমার্ক এবং তার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফ্রেডেরিকসেন উল্লেখ করেন যে এই বিষয়টি এখন একটি সংঘাতের রূপ ধারণ করেছে এবং দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থের ওপর প্রভাব ফেলছে।

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে চরম মুহূর্তে ডেনমার্ক দাঁড়িয়ে আছে তা কেবল দ্বীপের স্বয়ংসম্পূর্ণতার প্রশ্ন নয়, বরং বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। তিনি যুক্তি দেন যে এই পরিস্থিতি ডেনমার্কের সামগ্রিক কৌশলগত অবস্থানকে প্রভাবিত করবে।

ফেসবুকে প্রকাশিত এক পোস্টে ফ্রেডেরিকসেন উল্লেখ করেন, ডেনমার্ক যে কোনো প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে, বিশেষ করে আর্কটিক অঞ্চলে, তার মূল্যবোধ রক্ষার জন্য প্রস্তুত। তিনি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান এবং জনগণের আত্ম-নিয়ন্ত্রণাধিকারের প্রতি বিশ্বাসের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

ট্রাম্পের দাবির বিরোধে জার্মানি ও সুইডেনের সরকারী অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। উভয় দেশই ডেনমার্কের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসনকে সমর্থন জানিয়েছে।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আর্কটিকের নিরাপত্তা বাড়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং এটিকে নেটো জোটের যৌথ স্বার্থের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, আর্কটিকের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা ভবিষ্যৎ শক্তি সরবরাহের জন্য অপরিহার্য।

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন, তিনি উল্লেখ করেন যে সুইডেন, অন্যান্য নর্ডিক ও বাল্টিক দেশ এবং ইউরোপের কিছু প্রধান রাষ্ট্র ডেনমার্কের পাশে রয়েছে। এই সমর্থন আর্কটিকের কৌশলগত গুরুত্বকে আরও দৃঢ় করে তুলছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় দেশের সামরিক প্রধানরা গ্রিনল্যান্ডে সম্ভাব্য নেটো মিশনের পরিকল্পনা করছেন। এই মিশনটি আর্কটিকের নিরাপত্তা ও রাশিয়া-চীন প্রভাবের মোকাবিলার উদ্দেশ্যে গৃহীত হতে পারে।

লন্ডনে জার্মানি ও ফ্রান্সের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনায় ব্রিটেনের সেনা, যুদ্ধজাহাজ এবং বিমান গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েনের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে, যা রাশিয়া ও চীনের হাত থেকে দ্বীপকে রক্ষা করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

বেলজিয়ামের প্রতিরক্ষামন্ত্রী থিও ফ্রাঙ্কেন রেইটার্সের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নেটোর আর্কটিক অঞ্চলে বিশেষ অভিযান চালু করার পরামর্শ দেন। তিনি নেটোর শক্তি সমন্বয় এবং উত্তরের এই অঞ্চলে একটি “আর্কটিক সেন্টার” গড়ে তোলার প্রস্তাব করেন, যা বাল্টিক ও পূর্ব ইউরোপে নেটোর নজরদারি মডেলের অনুকরণে হবে।

এইসব আলোচনার পর নেটো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আর্কটিকের নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্বিবেচনা করতে পারেন, এবং ডেনমার্কের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্রিনল্যান্ডে দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ডেনমার্ককে তার কৌশলগত অবস্থান দৃঢ় করতে সহায়তা করবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments