ঢাকা, ১১ জানুয়ারি – এবিপি যৌথ সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুমনা মিলি রোববার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংলাপে উপকূলীয় অঞ্চলের পানির ন্যায্য হিসাব নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়েরের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশকে উন্নত দেশগুলো থেকে ৫.৮ ট্রিলিয়ন ডলার ‘কার্বন ফাইন’ পাওয়ার অধিকার রয়েছে, যা দেশের অধিকার হিসেবে স্বীকৃত।
মিলি জানান, উপকূলের জন্য প্রয়োজনীয় ১৯.৭ বিলিয়ন ডলারের মাত্র ছয় ভাগের এক ভাগই বর্তমানে বরাদ্দ করা হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে তিনি কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলো থেকে প্রাপ্য অর্থ সংগ্রহে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি গ্লোবাল ফান্ডের মাধ্যমে এই অর্থ আনা যায়, তবে আধুনিক ও বহুমুখী সাইক্লোন সেন্টার গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে।
পানির হিসাবের ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ‘ভাটির দেশ’ হিসেবে ন্যায্য ভাগ পাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক রিভার কনভেনশন অনুযায়ী, তিনি আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়েরের সম্ভাবনা উন্মোচন করেন, যাতে দেশের পানির অধিকার রক্ষা করা যায়। তিনি যুক্তি দেন, যদি পাকিস্তান ভারতকে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে, তবে বাংলাদেশকে বছরের পর বছর ক্ষতি সহ্য করতে হবে না।
বাজেটের অগ্রাধিকার পরিবর্তনের কথাও মিলি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা খাতে যুদ্ধবিমান কেনার চেয়ে উপকূলের সুরক্ষার জন্য সার্ভে ভেসেল বা জরিপ জাহাজ ক্রয় করা এখন দেশের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। এই প্রস্তাবটি দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কৌশল হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
সংলাপটি ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইশতেহারে উপকূলীয় অঞ্চলের সংকট অন্তর্ভুক্তি’ শীর্ষক নাগরিক আলোচনার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজক হিসেবে লোকাল এনভায়রনমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ সোসাইটি (লিডার্স) এবং মিডিয়া স্ট্রিম উল্লেখ করা হয়েছে, আর মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ঢাকা স্ট্রিম কাজ করেছে।
মিলি উল্লেখ করেন, এবিপি দলের নির্বাচনী ইশতেহারে এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, পানির ন্যায্য হিসাব এবং উপকূলের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যাহত হবে। এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি দলের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশলে পরিবেশ ও জলসম্পদ সংরক্ষণকে মূল থিম হিসেবে তুলে ধরার ইঙ্গিত দেন।
সংলাপের সময় তিনি আন্তর্জাতিক আর্থিক তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহের সম্ভাবনা তুলে ধরেন, যা দেশের করের বোঝা কমিয়ে সরাসরি প্রকল্পে ব্যবহার করা যাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গ্লোবাল ফান্ডের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে আধুনিক সাইক্লোন সেন্টার গঠন করা সম্ভব, যা দেশের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াবে।
এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, এবিপি যদি পানির ন্যায্য হিসাবের জন্য আন্তর্জাতিক আইনি লড়াইয়ে সফল হয়, তবে এটি দেশের জলসম্পদ নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। একই সঙ্গে, বাজেটের অগ্রাধিকার পরিবর্তন নিয়ে বিতর্কও তীব্র হতে পারে, কারণ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় কমানো কিছু গোষ্ঠীর কাছ থেকে সমালোচনা পেতে পারে।
সারসংক্ষেপে, এবিপি যৌথ সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুমনা মিলি উপকূলীয় অঞ্চলের পানির ন্যায্য হিসাব নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়েরের পরিকল্পনা, ৫.৮ ট্রিলিয়ন ডলার কার্বন ফাইন দাবি এবং বাজেটের অগ্রাধিকার পুনর্গঠনসহ বেশ কয়েকটি মূল পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। এই বিষয়গুলো দলীয় ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে উঠে আসবে।



