বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, টি‑২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চলাকালীন, আসিফ নজরুলের উল্লেখিত চিঠি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি জানিয়েছেন, ওই চিঠি আইসিসির ভেন্যু পরিবর্তনের প্রস্তাবের জবাব নয়, বরং একটি অভ্যন্তরীণ নোট।
বিফু (বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন) এর অফিসে মঙ্গলবারের সভায়, আসিফ নজরুল নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা তুলে ধরে, আইসিসি কর্তৃক প্রেরিত একটি চিঠির উল্লেখ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঐ চিঠিতে তিনটি মূল বিষয় রয়েছে: প্রথমে, মুস্তাফিজুর রহমানকে দলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা; দ্বিতীয়ে, দলের সমর্থকরা জাতীয় জার্সি পরিধান করে ঘোরাফেরা করা; তৃতীয়ে, নির্বাচনের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে।
বিফু ইতিমধ্যে আইসিসিকে দুইটি চিঠি পাঠিয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে একটি চিঠির জবাব আইসিসি থেকে এসেছে, তবে বিফু সেই জবাবের বিষয়বস্তু প্রকাশ করেনি। আসিফের উল্লেখিত চিঠি ও আইসিসির জবাবের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট না থাকায়, আজাদ মজুমদার সামাজিক মাধ্যমে সংশোধনী মন্তব্য করেন।
আজাদ মজুমদার স্পষ্টভাবে বলছেন, আসিফের উল্লেখিত চিঠি কোনো সরকারি বা আন্তর্জাতিক সংস্থার আনুষ্ঠানিক উত্তর নয়; এটি শুধুমাত্র বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ নোট। এই নোটের উদ্দেশ্য হল দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও নির্বাচনের প্রভাব বিশ্লেষণ করা, যাতে টি‑২০ বিশ্বকাপের সময় দল ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
আইসিসির চিঠি মূলত ভেন্যু পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছিল, যেখানে বাংলাদেশ দলকে ভারতের বাইরে ম্যাচ খেলার অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে আজাদ মজুমদার উল্লেখ করেন, আইসিসি থেকে প্রাপ্ত কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর এই অনুরোধের প্রত্যাখ্যান বা গ্রহণের বিষয় নয়। তাই, আসিফের চিঠি ও আইসিসির চিঠির বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন।
নিরাপত্তা উদ্বেগের মূল কারণ হল ভারতের নির্বাচনের সময়সূচি ও সম্ভাব্য অশান্তি, যা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। বিফু এই দিকটি বিবেচনা করে, দলকে সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা চেয়েছে। এতে দলীয় খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা, ভক্তদের চলাচল ও স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত।
মুস্তাফিজুর রহমানের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনায়, আজাদ মজুমদার উল্লেখ করেন, এই বিষয়টি নিরাপত্তা নোটের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, তবে এটি আইসিসির কোনো চিঠিতে উল্লেখিত নয়। একইভাবে, সমর্থকদের জাতীয় জার্সি পরিধান করার অনুমতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নির্বাচনের সময় বাড়তে পারে এমন ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ দল প্রথম ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচটি ভারতের ভেন্যুতে নির্ধারিত, এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে নেওয়া হবে। দলটি প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে রয়েছে, এবং নিরাপত্তা বিষয়ক নোটটি প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আজাদ মজুমদার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্যের পর, বিফু ও আইসিসি উভয়ই নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সমন্বয় বজায় রাখার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। উভয় সংস্থা একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে, আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করবে বলে জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ দলের কোচ ও স্টাফ সদস্যরা নিরাপত্তা নোটের নির্দেশনা মেনে, খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি বজায় রাখার জন্য অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ সেশন চালু করেছে। ভক্তদের জন্যও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে, স্টেডিয়াম প্রবেশের নিয়ম ও নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে।
টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে, বাংলাদেশ দলকে অন্যান্য এশীয় ও আফ্রিকান দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। প্রতিটি ম্যাচের আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আপডেট প্রদান করা হবে, যাতে খেলোয়াড় ও ভক্ত উভয়েরই নিরাপদ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত হয়। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন, ক্রীড়া উপদেষ্টা আজাদ মজুমদার দলের নিরাপত্তা ও পারফরম্যান্সের উপর নজর রাখবেন।



