19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকখলিশাকোঠাল সীমান্তে BGB‑BSF সিও পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত

খলিশাকোঠাল সীমান্তে BGB‑BSF সিও পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমানা রক্ষার অধীনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) ও বাংলাদেশ গার্ড (BGB) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে সিও পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি সোমবার, ১২ জানুয়ারি, বিকেল ৩ঃ৪০ টায় খলিশাকোঠাল সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার নম্বর ৯৩৪‑এর প্রথম সাব‑পিলারের পাশে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে BGB‑এর লালমনিরহাট‑১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম এবং BSF‑এর ০৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কে.কে. রাও উপস্থিত ছিলেন। BGB পক্ষ থেকে শিমুলবাড়ী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার নরেশ চন্দ্র রায়, বালারহাট ক্যাম্প কমান্ডার তায়েজ উদ্দিন এবং একটি স্টাফ অফিসারসহ মোট পাঁচজন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। BSF‑এর প্রতিনিধিত্বে মেঘ নারায়ণ কুটির ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসি সুনীল কুমার এবং তার চারজন সহকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকটি প্রায় বিশ মিনিট স্থায়ী হয় এবং এতে গত ৭ ও ৮ জানুয়ারি BSF কর্তৃক শুরু করা একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ওপর দুইটি পূর্ববর্তী পতাকা বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা হয়। BGB‑এর মতে, ১৩ জানুয়ারি নির্ধারিত পরবর্তী বৈঠকের আগে এই অতিরিক্ত বৈঠকটি জরুরি হিসেবে আয়োজিত হয়।

BSF দাবি করে যে সংশ্লিষ্ট সড়কটি ব্রিটিশ শাসনকালে নির্মিত পুরনো পাকা সড়ক এবং বর্তমানে কেবল মেরামতের কাজ চলছে। তারা নিশ্চিত করেছে যে সড়কটি কোনোভাবে প্রশস্ত করা, উচ্চতা বাড়ানো বা নতুন পিলার, ল্যাম্পপোস্টের মতো কাঠামো স্থাপন করা হবে না। অন্যদিকে BGB উল্লেখ করেছে যে মেরামতের নামে সড়কের কোনো সম্প্রসারণ হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়, তাই দ্রুত একটি যৌথ পরিদর্শন দল গঠন করা হবে। BSF লিখিতভাবে BGB‑কে অবহিত করার পরে, BGB‑এর একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করবে।

বৈঠকের শেষে BGB‑এর অধিনায়ক জানিয়েছেন যে সীমান্তে টহল বাড়ানো হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়ে গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে খলিশাকোঠাল সীমান্তের আন্তর্জাতিক পিলার ৯৩৪‑এর প্রথম সাব‑পিলার থেকে একাদশ সাব‑পিলার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্বে ভারতের কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার করলা এলাকায় কুর্শাহাট‑দিনহাটা সড়ক অবস্থিত, যা সীমান্তের সঙ্গে সংলগ্ন।

এই বৈঠকটি দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও পারস্পরিক বিশ্বাস বজায় রাখতে চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পূর্বে দুই দেশই সীমান্তে বেড়া, ফেন্সিং এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য বহুবার সমঝোতা করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেন যে, সীমান্তে অবকাঠামো কাজের ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হতে পারে, তাই স্বচ্ছতা ও সমন্বয়মূলক মেকানিজমের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

বিশ্লেষকরা বলেন, “ব্রিটিশ যুগের পুরনো সড়ককে মেরামত হিসেবে উপস্থাপন করা এবং তা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ উভয় দেশের সীমান্ত নীতি ও নিরাপত্তা কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।” এ ধরনের পারস্পরিক আলোচনা ও যৌথ পরিদর্শন দল গঠন ভবিষ্যতে অনুরূপ বিরোধের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

বৈঠকের পরবর্তী ধাপ হিসেবে উভয় পক্ষই লিখিত নোটিশের মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবে এবং যৌথ পরিদর্শন দল গঠন করে সড়কের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করবে। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে BGB‑এর টহল বাড়িয়ে সীমান্তে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি, BSF‑এরও একই রকম পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সীমান্তে অবকাঠামো কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত যে কোনো পরিবর্তন বা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে উভয় দেশের নিরাপত্তা সংস্থা ও কূটনৈতিক মন্ত্রণালয়কে পূর্বে অবহিত করা এবং সমন্বিতভাবে কাজ করা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বাধ্যতামূলক। এই বৈঠকটি সেই নীতির বাস্তবায়ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments