১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুইজন স্থানীয় বিএনপি কর্মী নেট্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলা থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উপজেলা স্তরের কিছু বিএনপি নেতা বাজার, জলাশয় ও মাছের পুকুরের ওপর অবৈধ নিয়ন্ত্রণ গড়ে তুলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের থেকে কোটি টাকার জবরদস্তি করছেন।
অভিযোগকারী হলেন বলি গ্রাম, খালিয়াজুরি উপজেলার অধিবাসী মোঃ আকতারুজ্জামান চৌধুরী এবং মোহঙ্গঞ্জ উপজেলার কালুংকা গ্রাম থেকে জাহাঙ্গীর আলম খান। উভয়েই নিজেদেরকে সক্রিয় বিএনপি কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন এবং দলীয় কাঠামোর মধ্যে তাদের ভূমিকা উল্লেখ করেন।
প্রদত্ত অভিযোগটি বিএনপি চেয়ারম্যান তারিক রহমানের কাছে সরাসরি পাঠানো হয়েছে। লিখিত পত্রে দলীয় নেতাদের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সম্পদ দখল করার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে আছেন খালিয়াজুরি উপজেলার বিএনপি সভাপতি মোঃ আবদুর রউফ স্বধিন, উপ-সভাপতি ইদ্রিস আলী মোল্লা, যৌথ সাধারণ সম্পাদক তরিকুজ্জামান তোরু, সংগঠন সম্পাদক মির্জা জিয়া উদ্দিন এবং চাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আলকাস মিয়া। এই পাঁচজনকে স্থানীয় মানুষ “ফাইভ স্টার গ্রুপ” অথবা “সুপার ফাইভ ফোর্স” নামে অভিহিত করে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এই গোষ্ঠী দলীয় পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে মাছের পুকুর, জলাশয়, বাজারের লিজ, টেন্ডার এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের কাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ গড়ে তুলেছে। এই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তারা স্বেচ্ছাচারীভাবে অর্থ সংগ্রহের পথ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিশেষ করে লেপসিয়া বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা জবরদস্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে। এছাড়া, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অফিসের আশেপাশে নিয়মিতভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগকারীরা জানান।
মাছের পুকুরের দখল সম্পর্কেও বিস্তারিত অভিযোগ করা হয়েছে। রাণিচাপুর গ্রুপ ফিশারি, মোরানাদি (মোরাগাং), চুনাই গ্রুপ ফিশারি, ধুনান্দি (গাগলাজুর থেকে ধনপুর পর্যন্ত), রৌদিঘা ফিশারি এবং নাজিরপুর‑মুরাদপুর গ্রুপ ফিশারিগুলো বর্তমানে এই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে বলা হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম খান রাণিচাপুর গ্রুপ ফিশারিতে প্রায় বিশ থেকে পঁচিশ লাখ টাকা বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করেন। তবে মাছের কাটার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় গোষ্ঠীর সদস্যদের দ্বারা হুমকি ও আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল, যা তাদের বিনিয়োগকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়, তবে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখিত আর্থিক ক্ষতি ও হিংসা মোকাবিলার জন্য পুলিশ তদন্তের সম্ভাবনা উত্থাপিত হয়েছে।
বিএনপি দলের অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে এই অভিযোগের ওপর কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা এখনো অনিশ্চিত। তবে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য চেয়ারম্যানের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, অভিযোগগুলো এখনও প্রমাণের পর্যায়ে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রায় জারি হয়েছে না। তাই, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।
এই ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এবং স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন। ভবিষ্যতে যদি যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে সামাজিক অশান্তি বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।



