ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ক্যাম্পাসে সোমবার অনুষ্ঠিত নবম নন‑ফিকশন বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার উপস্থিত ছিলেন। তিনি সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন এবং সমাজের অগ্রগতিতে চিন্তাশীল নাগরিকের ভূমিকা তুলে ধরেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা ড. আবরার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার নীতি ও দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার বক্তব্যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজকে শুধুমাত্র ডিগ্রি প্রদান সীমাবদ্ধ না রেখে, শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তা গড়ে তোলার দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, একটি সমাজের শক্তি তার নিজস্ব প্রশ্ন করার সক্ষমতা থেকে উদ্ভূত হয়। জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে প্রশ্নের সাহস গড়ে উঠলে সমাজের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞান ও প্রশ্নের উত্স হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ড. আবরার বলেন, আজকের যুগে তথ্যের প্রাচুর্য রয়েছে, তবে সত্যিকারের জ্ঞানের ঘাটতি অনুভূত হয়। তথ্যের অতিরিক্ততা সঠিক বিশ্লেষণ ও বোঝার অভাবে ব্যর্থ হতে পারে, তাই জ্ঞানের সেতু গড়তে নন‑ফিকশন সাহিত্য অপরিহার্য।
নন‑ফিকশন বইয়ের ভূমিকা তিনি অপরিসীম বলে উল্লেখ করেন। ইতিহাস, বিজ্ঞান, সমাজশাস্ত্র ইত্যাদি বিষয়ের বাস্তবিক তথ্য ও বিশ্লেষণ পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত করে। ফলে শিক্ষার্থীরা তত্ত্বের পাশাপাশি বাস্তবিক জ্ঞান অর্জন করতে পারে।
শিক্ষার্থীদের বই পড়ার প্রতি উৎসাহিত করতে তিনি সরাসরি আহ্বান জানান। নন‑ফিকশন গ্রন্থে ডুবে প্রশ্ন তুলতে, তর্ক করতে এবং নিজের মত গঠন করতে বলা হয়। এ ধরনের পাঠ্যক্রম শিক্ষার্থীর মনের জ্ঞানীয় গঠনকে শক্তিশালী করে।
বইমেলাটি শিক্ষার দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে উপস্থাপিত হয়। ক্যাম্পাসের চারপাশে সাজানো স্টলগুলোতে বিভিন্ন বিষয়ের নন‑ফিকশন গ্রন্থ প্রদর্শিত হয়, যা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও আকৃষ্ট করে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জ্ঞানের প্রাচীর ভেঙে সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
ড. আবরার উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এই ধরনের অনুষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং শিক্ষার পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হল সমাজকে আলোর পথ দেখানো, যা নন‑ফিকশন বইমেলার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ‑উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। তিনি বইমেলার গুরুত্ব ও শিক্ষার দিক থেকে এর প্রভাব সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন। উভয়ই একমত যে শিক্ষার মূল লক্ষ্য হল জ্ঞানকে প্রশ্নের মাধ্যমে পরিশোধন করা।
বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশক ও লেখকরা বিভিন্ন শাখার নন‑ফিকশন গ্রন্থ উপস্থাপন করেন, যেমন পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, সামাজিক ন্যায়বিচার ইত্যাদি। এই বৈচিত্র্য শিক্ষার্থীদের জন্য বিস্তৃত দৃষ্টিকোণ প্রদান করে এবং তাদের গবেষণার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়তা করে।
শিক্ষা উপদেষ্টা ড. আবরার শেষ কথায় শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ দেন: প্রতিদিন কমপক্ষে একটি নন‑ফিকশন পৃষ্ঠা পড়া, তাৎক্ষণিক প্রশ্ন তৈরি করা এবং সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনা করা। এভাবে জ্ঞানকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করা সম্ভব।
এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের মধ্যে সেতু গড়ে তোলা যায়, যা ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ ও সচেতন নাগরিক গঠনে সহায়তা করবে।
আপনার কি কোনো নন‑ফিকশন বই আছে যা আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে? মন্তব্যে শেয়ার করুন এবং অন্যদের জন্য সুপারিশ করুন।



