ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সোমবার বিকেলে সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এমপি-দের সরকারি বরাদ্দের অর্ধেক নিজেদের হাতে রাখার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাকি অংশের ভাগাভাগি ঠিকাদার ও সহযোগীদের মধ্যে হয়, আর প্রকৃত কাজের জন্য মাত্র পাঁচ শতাংশই ব্যবহার হয়।
ফারহানা উল্লেখ করেন, যদি এমপি-রা সৎ হন তবে কোনো ঠিকাদারই তাদের থেকে চুরি করতে পারবে না; সুতরাং চুরির মূল কারণ হল দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তির ইচ্ছা। তিনি বলেন, সরকারি ও স্বতন্ত্র এমপি-দের বরাদ্দের পরিমাণ সমান, তবে সৎ সদস্যদের ক্ষেত্রে বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।
বক্তব্যের মধ্যে তিনি দেশের প্রবাসী সম্প্রদায়ের ভূমিকা উল্লেখ করে বলেন, গ্রাম ও দেশের অর্থনীতির গতি বজায় রাখতে প্রবাসীদের প্রশিক্ষণ ও সমর্থন প্রদান করা এমপি-দের দায়িত্ব। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা সম্ভব।
পানিশ্বরের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বের কথাও তিনি তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, পানিশ্বরের জোয়ার সরাইল-আশুগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে এবং এখানকার ভোটাররা প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানালে তিনি এমপি পদে নির্বাচিত হতে পারেন। নিজের বাবার মতোই তিনি নিজেও এই এলাকার সমর্থন পেয়ে জয়ী হতে চান।
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর রুমিন ফারহানা এখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব নামের একজন ধর্মীয় নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ফারহানা বলেন, এমপি-দের চুরি না করলে সরকারি ও বেসরকারি কাজের কোনো বাধা থাকে না; বরং সঠিকভাবে বরাদ্দ ব্যবহার করলে উন্নয়ন কাজ দ্রুত এগোবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বরাদ্দের ২৫ শতাংশ সহযোগীরা নেয়, ২০ শতাংশ ঠিকাদারদের পকেটে যায় এবং কেবল ৫ শতাংশই প্রকৃত কাজের জন্য ব্যয় হয়।
এই বক্তব্যের পর তিনি স্থানীয় জনগণকে আহ্বান জানান, যেন তারা স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রেখে ভোট দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে বরাদ্দের ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট হিসাব প্রকাশ করা উচিত।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের দলও এই অঞ্চলের ধর্মীয় ও সামাজিক সংযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তার প্রচারণা মূলত ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, যা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, রুমিন ফারহানার দুর্নীতি-বিরোধী অবস্থান ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি গুরুত্বারোপ তার ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারে। তবে, বিএনপি জোটের ঐতিহ্যবাহী সমর্থন ও ধর্মীয় নেতার উপস্থিতি তার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
আসন্ন নির্বাচনের আগে উভয় প্রার্থীর প্রচারণা কিভাবে এগোবে তা রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিদ্যা যোগ করবে। রুমিন ফারহানা যদি তার দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে পারেন, তবে তিনি স্থানীয় উন্নয়নের নতুন মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারেন। অন্যদিকে, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের ধর্মীয় ভিত্তিক সমর্থন তাকে ভোটের ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থানে রাখতে পারে।
এই বিতর্কের মূল বিষয় হল বরাদ্দের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীল ব্যবহার। রুমিন ফারহানা যে দাবি উত্থাপন করেছেন, তা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও অনুরূপ দাবি উত্থাপিত হতে পারে। তাই, নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।
সর্বশেষে, রুমিন ফারহানা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, তিনি পানিশ্বরের জনগণের সমর্থন পেলে এমপি পদে জয়ী হয়ে বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে চান। তার লক্ষ্য হল, বরাদ্দের অধিকাংশ অংশ প্রকৃত উন্নয়ন কাজের জন্য ব্যবহার করা এবং দুর্নীতির সুযোগ কমিয়ে আনা।



