বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ (সদর‑সুবর্ণচর) আসনের প্রার্থী মো. শাহজাহানকে লক্ষ্য করে একটি প্রতারক গোষ্ঠী তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর হ্যাক করে বিকাশে টাকা পাঠানোর অনুরোধ জানায়। প্রথম অভিযোগটি ১২ জানুয়ারি সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় পাওয়া যায়, যখন এক অপরিচিত ব্যক্তি তার হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ব্যক্তিগত নম্বরে ৩৫,০০০ টাকা পাঠানোর আহ্বান জানায়। ঘটনাস্থল নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানা, যেখানে একই রাতে শ্রী শাহজাহান লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হ্যাক করা নম্বরের মাধ্যমে একই চক্রের সদস্যরা একাধিক ব্যক্তিকে একই রকম অর্থের দাবি করে থাকে। শ্রী শাহজাহান জানান, এই অনুরোধের আগে একই নম্বর থেকে অন্য কয়েকজনের কাছেও সমান ধরনের দাবি করা হয়েছে। প্রতারকরা বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর নির্দেশনা দেন, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেনদেন সম্পন্ন করে এবং শিকারকে আর্থিক ক্ষতির শিকার করে।
শাহজাহানের ব্যক্তিগত সহকারীরা যখন এই অনুরোধের কথা জানেন, তখন তারা অবিলম্বে প্রার্থীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সহকারীরা হ্যাক হওয়া নম্বরের প্রযুক্তিগত দিক এবং সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি সম্পর্কে জানিয়ে শ্রীকে সতর্ক করেন। এরপর শ্রী শাহজাহান দ্রুত নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন, যাতে বিষয়টি আইনি পথে সমাধান করা যায়।
প্রার্থীর বিবৃতি অনুযায়ী, তিনি জনসাধারণকে সতর্ক করতে চান যাতে কেউ এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন না করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হ্যাক করা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের মাধ্যমে পাঠানো কোনো অনুরোধই অবৈধ এবং তা অনুসরণ করা উচিত নয়। এছাড়া তিনি ইতিমধ্যে থানায় অভিযোগ দায়ের করে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর অর্পণ করেছেন।
সুধারাম মডেল থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শ্রী শাহজাহানের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর হ্যাক হয়ে প্রতারক চক্রের মাধ্যমে টাকা দাবি করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত চালু করা হবে। ওসি আরও জানান, হ্যাকিংয়ের পদ্ধতি ও চক্রের কার্যক্রম শনাক্ত করতে ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল ট্রেস অনুসরণ করা হবে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, হ্যাক করা মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের অনুরোধ করা বেআইনি এবং সাইবার অপরাধের আওতায় পড়ে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, হ্যাকিং, তথ্য চুরি এবং প্রতারণা করে আর্থিক লাভের চেষ্টা করা ব্যক্তিকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হতে পারে। থানা বর্তমানে এই মামলায় প্রাথমিক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের জন্য বিকাশের লেনদেন রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট লগ এবং হ্যাকিংয়ের প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে।
প্রতিবাদী গোষ্ঠীর পরিচয় এখনো স্পষ্ট না হলেও, থানা ইতিমধ্যে স্থানীয় ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী এবং সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে হ্যাকিংয়ের উৎস চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে, সন্দেহভাজনদের ফোন নম্বর, আইপি ঠিকানা এবং ব্যবহার করা সফটওয়্যারের বিশ্লেষণ করা হবে।
জনসাধারণের জন্য এই ধরনের সাইবার প্রতারণা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে অচেনা নম্বর থেকে আর্থিক অনুরোধ এলে তা অবিলম্বে উপেক্ষা করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। এছাড়া, ব্যক্তিগত তথ্য ও অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বজায় রাখতে দুই-ধাপের প্রমাণীকরণ এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
থানা কর্তৃক জানানো হয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি এবং সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণে সফলতা অর্জিত হলে মামলাটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে। শ্রী শাহজাহান এবং তার সহকারীরা তদন্তের ফলাফল অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবেন। এই ঘটনা সাইবার নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ডিজিটাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



