27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরুমিন ফারহানা বলেন, দল না থাকলেও এলাকার মানুষ তার পাশে

রুমিন ফারহানা বলেন, দল না থাকলেও এলাকার মানুষ তার পাশে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের অংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা সোমবার বিকেলে সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের শাখাইতি গ্রামে অনুষ্ঠিত এক উঠান বৈঠকে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দল থেকে পদত্যাগের পরেও তার এলাকার মানুষ তাকে ত্যাগ করেনি এবং তার সমর্থন অব্যাহত রয়েছে।

ফারহানা জানান, যখন তিনি দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাননি, তখন অনেকের কাছ থেকে প্রশ্ন উঠে যে তিনি সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে পারতেন এবং উচ্চকক্ষেও যেতে পারতেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কারণ হল এলাকার মানুষের কষ্ট, তাদের শ্রম ও তাদের বিশ্বাস, যা তাকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পরেও তিনি দলের প্রতি কোনো অবমাননা করেননি, বরং বলেন, দল না থাকলেও তার মানুষকে ত্যাগ করে চলে যাওয়া তার স্বভাবের বিপরীত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার পদচ্যুতি বদলেছে কিন্তু তার সমর্থকরা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে কোনো রাজনৈতিক শক্তি তাকে তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।

তার মূল লক্ষ্য হিসেবে তিনি সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলার অবহেলিত অবস্থা উন্নত করে দুটিকে মডেল উপজেলা রূপে গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তিনি স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো কাজ এবং সামাজিক সেবার ওপর গুরুত্বারোপ করবেন।

ফারহানা তার পিতার রাজনৈতিক ঐতিহ্যও স্মরণ করেন। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে তার বাবা, ভাষাসংগ্রামী অলি আহাদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একই আসন জয়লাভ করেছিলেন, তবে পরে তাকে কাজের সুযোগ না দেওয়া হয়। তিনি বলেন, তার বাবার স্বপ্ন পূরণ করা এখন তার দায়িত্ব, এবং তিনি জয়লাভের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করতে চান।

বিএনপি জোটের পক্ষ থেকে এই আসনে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত করা হয়েছে। জোটের এই সিদ্ধান্তের পর রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন, যা আসনের ভোটের গতিবিধিতে নতুন দিক যোগ করবে।

ফারহানা ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন এবং তৎপরই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার প্রচার শুরু করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বহিষ্কারের পরেও তার ভিত্তি ও সমর্থক গোষ্ঠী অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা তাকে আত্মবিশ্বাস দেয়।

প্রতিবাদী দলের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, জোটের প্রার্থীকে সমর্থন করার পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি ভোটের বিভাজন ঘটাতে পারে। তবে ফারহানা বলেন, তার সমর্থকরা তার প্রতি অবিচল এবং তিনি তাদের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

এই নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে রুমিন ফারহানার স্বতন্ত্র প্রচারাভিযান স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে। তার উপস্থিতি জোটের ভোট ভাগে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যারা পারিবারিক ও ঐতিহাসিক সংযোগের ভিত্তিতে ভোট দেন।

অবশেষে, ফারহানা জানান, তিনি রাজনৈতিক দলে ফিরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা না রেখে, তার মূল কাজ হল এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ। তিনি আশাবাদী যে তার প্রচেষ্টা ও জনগণের সমর্থন তাকে সফল করবে এবং সরাইল-আশুগঞ্জকে মডেল উপজেলা রূপে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

এই বৈঠকে উপস্থিত স্থানীয় নেতারা এবং ভোটাররা ফারহানার বক্তব্যে সম্মতিসূচক সাড়া দেন, এবং তিনি ভবিষ্যতে কীভাবে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তবে তিনি সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বলেন, তার লক্ষ্য স্পষ্ট এবং তিনি তা অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments