কুরিগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি উপজেলায় ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF) সীমান্তে রাস্তা মেরামতের কাজ চালু করার দাবি জানায়। বাংলাদেশ গার্ড (BGB) এই দাবির ওপর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে। বিষয়টি উভয় দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে।
BSF দাবি করে যে ভারতীয় পার্শ্বের পাকা রাস্তা ব্রিটিশ শাসনকালে নির্মিত এবং নতুন কোনো নির্মাণ নয়, কেবল পুরনো রাস্তাটি মেরামত করা হচ্ছে। তারা নিশ্চিত করে যে কোনো অবস্থাতেই রাস্তাটি প্রশস্ত করা হবে না। এই বক্তব্যের ভিত্তিতে তারা কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি চায়।
লেটারেল কলোনেল মেহেদি ইমাম, লালমনিরহাট‑১৫ BGB ব্যাটালিয়নের কমান্ডার, এই বিষয়টি ব্যাটালিয়ন স্তরের ফ্ল্যাগ মিটিংয়ে তুলে ধরেন। মেহেদি ইমাম জানান, মিটিংটি ফুলবাড়ি খালিশাকোথাল সীমান্তে অনুষ্ঠিত হয় এবং উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে BGB এলাকার পেট্রোল বাড়িয়ে নিরাপত্তা বজায় রেখেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
ফ্ল্যাগ মিটিংয়ে ভারতীয় দিক থেকে ৩য় BSF ব্যাটালিয়নের কমান্ডার কে.কে. রাও উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার পর BSF মেরামত কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি পাবে, তবে নতুন রাস্তা নির্মাণ, রাস্তাটির স্তর উঁচু করা বা নতুন পিলার ও ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। এই শর্তগুলো মিটিংয়ের সময় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
BGB তৎক্ষণাৎ একটি পরিদর্শন দল গঠন করে, যা অফিসিয়াল চিঠিপত্রের মাধ্যমে কাজের সাইটে যাবে। দলটি রাস্তাটি মেরামত কাজের প্রকৃত পরিধি যাচাই করবে এবং BSF কি মেরামতের ছদ্মবেশে রাস্তাটি প্রশস্ত করার চেষ্টা করছে কিনা তা নির্ণয় করবে। উভয় দেশের কর্মকর্তারা যৌথ পরিদর্শন দল গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যা শীঘ্রই কার্যকর হবে।
মেহেদি ইমাম স্পষ্ট করে বলেন, BSF কেবল রাস্তাটির মেরামত করতে পারবে, তবে নতুন নির্মাণ, রাস্তাটির উচ্চতা বাড়ানো বা অতিরিক্ত কাঠামো স্থাপন করা যাবে না। তিনি যোগ করেন, এই শর্তগুলো ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের সময় উভয় পক্ষের সম্মতিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং BSF এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা সাম্প্রতিক সময়ে রাস্তাটি নির্মাণের উদ্বেগে প্রতিবাদ করে, যা BGB-কে দ্রুত ফ্ল্যাগ মিটিং আয়োজনের দিকে ধাবিত করে। প্রতিবাদকারীরা রাস্তাটির বিস্তৃতি ও সম্ভাব্য ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, যদিও BSF মেরামত কাজের দাবি করে। এই পরিস্থিতি সীমান্তে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে, তাই উভয় পক্ষের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক রাহুল চক্রবর্তী মন্তব্য করেন, “সীমান্তে অবকাঠামো কাজের কোনো পরিবর্তন উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।” তিনি যোগ করেন, এই ধরনের মিটিং ও যৌথ পরিদর্শন ভবিষ্যতে অনধিক সংঘাত রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে BGB এবং BSF যৌথভাবে সাইট পরিদর্শন করবে এবং মেরামত কাজের প্রকৃত সীমা নির্ধারণের জন্য একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করবে। রিপোর্টের ভিত্তিতে উভয় দেশের উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে চূড়ান্ত অনুমোদন চাওয়া হবে। যদি কোনো লঙ্ঘন ধরা পড়ে, তবে তা দ্রুত সংশোধনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে উভয় দেশের নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্তে কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং স্থানীয় জনগণের উদ্বেগ কমাতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।



