চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড রুমে সোমবার এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এক্সেনটেক পিএলসি দ্বারা স্থাপিত 5জি নেটওয়ার্কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এই উদ্যোগের প্রধান অতিথি ছিলেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, যিনি নেটওয়ার্ক চালু করার সময় উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধিত 5জি সিস্টেমটি চট্টগ্রাম বন্দরকে ডিজিটালভাবে আরও সক্রিয়, নিরাপদ এবং কার্যকর করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। উচ্চগতির ডেটা ট্রান্সমিশন এবং কম লেটেন্সি নিশ্চিত করে, এই নেটওয়ার্কটি বন্দর পরিচালনায় রিয়েল-টাইম মনিটরিং ও স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণকে সমর্থন করবে।
এক্সেনটেক পিএলসি, যা টেলিকমিউনিকেশন অবকাঠামোতে বিশেষজ্ঞ, এই প্রকল্পের জন্য সর্বশেষ রেডিও অ্যাক্সেস টেকনোলজি (RAT) ব্যবহার করেছে। 5জি নেটওয়ার্কের কভারেজ বন্দর এলাকার সব টার্মিনাল, গুদাম এবং লজিস্টিক সেন্টারকে অন্তর্ভুক্ত করবে, ফলে শিপিং, কাস্টমস এবং লোডিং প্রক্রিয়ার তথ্য আদানপ্রদান দ্রুততর হবে।
বন্দরের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে, এই নেটওয়ার্কটি ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) ডিভাইসের সংযোগকে সহজ করবে। সেন্সর, ক্যামেরা এবং অটোমেটেড গাইডেড ভেহিকল (AGV) সবই 5জি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে কাজ করবে, যা লোডিং সময় কমিয়ে নিরাপত্তা বাড়াবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, 5জি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্যের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করা নতুন মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই প্রযুক্তি বন্দর ব্যবস্থাপনা সিস্টেমকে আধুনিকায়ন করবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে।
প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে, 5জি নেটওয়ার্কের ব্যান্ডউইডথ প্রায় ১ গিগাবিট প্রতি সেকেন্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম, যা পূর্বের 4জি সিস্টেমের তুলনায় দশগুণ দ্রুত। এ ধরনের গতি বড় ডেটা সেটের রিয়েল-টাইম বিশ্লেষণ এবং ক্লাউড-ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন চালানোর জন্য আদর্শ।
বন্দরের কর্মী ও শিপিং কোম্পানিগুলো এখন উচ্চমানের ভিডিও কনফারেন্সিং, রিমোট ডায়াগনস্টিক এবং স্বয়ংক্রিয় ডকিং সিস্টেম ব্যবহার করতে পারবে। ফলে মানবিক ত্রুটি হ্রাস পাবে এবং অপারেশনাল খরচ কমে যাবে।
এই উদ্যোগের পেছনে এক্সেনটেকের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাংলাদেশের বাণিজ্যিক বন্দরগুলোকে স্মার্ট পোর্টে রূপান্তরিত করার দিকে লক্ষ্য রাখে। কোম্পানি ইতিমধ্যে দেশের অন্যান্য প্রধান বন্দরেও 5জি অবকাঠামো স্থাপনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর, যা দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর, তার কার্যক্রমে এই উন্নতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলোর জন্য আকর্ষণীয় হবে, ফলে বন্দর টার্নঅ্যারাউন্ড সময় কমে যাবে।
ভবিষ্যতে, 5জি নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে বন্দর পরিচালনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক পূর্বাভাসমূলক রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্বয়ংক্রিয় লোডিং-আনলোডিং সিস্টেম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ধরনের প্রযুক্তি বন্দরকে আরও প্রতিযোগিতামূলক এবং পরিবেশবান্ধব করে তুলবে।
বন্দরের ডিজিটাল রূপান্তরের এই ধাপটি দেশের সামগ্রিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে স্মার্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং উচ্চগতির ডেটা সংযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। 5জি নেটওয়ার্কের সফল উদ্বোধন বাণিজ্যিক কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়াবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সারসংক্ষেপে, এক্সেনটেকের 5জি নেটওয়ার্কের চালু হওয়া চট্টগ্রাম বন্দরের ডিজিটাল পরিবেশকে শক্তিশালী করেছে, যা ভবিষ্যতে বন্দর ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



