20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিক১৪২ বছর বয়সে সৌদি আরবের সর্ববয়স্ক নাগরিক নাসির বিন রাদান আল-রশিদ আল-ওয়াদাইয়ের...

১৪২ বছর বয়সে সৌদি আরবের সর্ববয়স্ক নাগরিক নাসির বিন রাদান আল-রশিদ আল-ওয়াদাইয়ের মৃত্যু

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় ধাহরান আল-জানুবে আজ নাসির বিন রাদান আল-রশিদ আল-ওয়াদাইকে ১৪২ বছর বয়সে বিদায় জানানো হয়েছে। দেশের সর্ববয়স্ক নাগরিক হিসেবে পরিচিত আল-ওয়াদাইয়ের মৃত্যু স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক দুঃখ প্রকাশের কারণ হয়েছে। তার শেষ সমাহি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সাত হাজারের বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সমাধি তার পৈতৃক গ্রাম আল-রশিদে সম্পন্ন হয়েছে, যা তার পরিবার ও সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

আল-ওয়াদাই ১৪২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করে, যা তাকে সৌদি আরবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বয়সের নাগরিকের মর্যাদা এনে দিয়েছে। তার জন্মকাল আধুনিক সৌদি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পূর্বে, ফলে তিনি দেশের প্রথম শাসক বাদশাহ আবদুল আজিজের শাসনকাল থেকে বর্তমান বাদশাহ সালমান পর্যন্ত সকল শাসকের শাসনকাল প্রত্যক্ষ করেছেন। এই বিস্তৃত সময়সীমা তার জীবনে সৌদি আরবের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা দেশের স্থিতিশীলতা ও পরিবর্তনের এক অনন্য মাপকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন।

ধর্মীয় দিক থেকে আল-ওয়াদাইকে অত্যন্ত ধার্মিক ও ধর্মভীরু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তার জীবদ্দশায় তিনি চল্লিশের বেশি বার হজ পালন করেছেন, যা তার ধর্মীয় নিষ্ঠা ও সমাজে তার মর্যাদার প্রধান কারণগুলোর একটি। স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে তার এই ধর্মীয় অবদানকে সম্মান ও শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, এবং তার মৃত্যু পরবর্তী দিনগুলোতে বহু ধর্মীয় সংগঠন ও মসজিদে তার প্রতি শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

আল-ওয়াদাইয়ের মৃত্যুর খবর দ্রুত সৌদি আরবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বহু ব্যবহারকারী তাকে বিশ্বাস, দৃঢ়তা ও অবিচলতার জীবন্ত উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেন। তার দীর্ঘায়ু ও ধর্মীয় অবদানকে সম্মান জানিয়ে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তার স্মৃতিচারণা এবং তার জীবনের প্রতীকী দিকগুলো নিয়ে আলোচনা চালু হয়। এই ধরনের সামাজিক প্রতিক্রিয়া দেশের ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ ও আধুনিক মিডিয়া ব্যবহারের সংযোগকে তুলে ধরে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, আল-ওয়াদাইয়ের জীবনকালকে মধ্যপ্রাচ্যের গতিশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তার জন্মের সময়ে আরব উপদ্বীপে এখনও বহু ছোট রাজ্য ও উপজাতি বিদ্যমান ছিল, আর তার শেষের দিকে সৌদি আরব গ্লোবাল তেল বাজারের একটি প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। একটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিক মন্তব্য করেন, “নাসির আল-ওয়াদাইয়ের দীর্ঘায়ু সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও বহিরাগত চ্যালেঞ্জের মধ্যে একটি অনন্য সেতু হিসেবে কাজ করেছে; তার জীবন আমাদেরকে দেখায় কীভাবে একটি দেশ ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে।” এছাড়া, অঞ্চলের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে তার সময়কালে গলফ যুদ্ধ, তেল সংকট এবং সাম্প্রতিক জিও-ইকোনমিক পুনর্গঠনসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে, যা তার ব্যক্তিগত ইতিহাসকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলীর সঙ্গে যুক্ত করে।

সৌদি আরবের সরকার আল-ওয়াদাইকে জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্মরণ করবে এবং তার পৈতৃক গ্রাম আল-রশিদে একটি স্মারক স্থাপন করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই উদ্যোগটি দেশের ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশের গঠন ও বিকাশের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments