মৃত্যুর পরেও আয়কর আইন অনুযায়ী করদাতা থেকে কর আদায় চালু থাকে; তাই উত্তরাধিকারী বা সম্পত্তি ব্যবস্থাপককে মৃতকরের কর ফাইল সমাপ্তি ও বকেয়া পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
আইনগত প্রতিনিধিকে সাধারণত নির্বাহী, প্রশাসক বা সম্পত্তি পরিচালনাকারী বলা হয়; তিনি মৃতকরের সম্পদ ও দায়বদ্ধতা উভয়ই তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকেন।
প্রথম ধাপ হিসেবে, প্রতিনিধিকে সংশ্লিষ্ট আয়কর অফিসে মৃতের মৃত্যুর নোটিশ দিতে হয় এবং ডেপুটি কমিশনারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি গ্রহণ করতে হয়।
বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার পর, প্রতিনিধি বা নির্ধারিত নির্বাহীর কাছ থেকে কর দায়বদ্ধতা নিষ্পত্তি ও ফাইল বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হয়।
প্রতিনিধি নিজেকে কর অফিসে নিবন্ধন করিয়ে নিলে, মৃতকরের ফাইল তার তত্ত্বাবধানে স্থানান্তরিত হয় এবং পরবর্তী সকল প্রক্রিয়া তার নামেই পরিচালিত হয়।
এরপর, মৃতকরের সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত করে দাখিল করতে হয়; এই রিটার্নে বকেয়া কর, জরিমানা ও সুদসহ মোট দায় নির্ধারিত হয়।
বকেয়া পরিমাণ পরিশোধের পর, প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট বিভাগে আবেদনপত্র জমা দিয়ে মৃতকরের আয়কর নিবন্ধন বাতিলের অনুরোধ জানায়, যা আয়কর আইনের ধারা ২৬২ অনুযায়ী করা হয়।
বাতিলের অনুমোদন পেলে, কর ফাইল আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং সম্পত্তি বণ্টনের জন্য আর কোনো কর সংক্রান্ত বাধা থাকে না।
অধিকাংশ সময়ে, প্রতিনিধিরা প্রক্রিয়া সম্পর্কে অপরিচিত থাকায় রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা মিস হয়, ফলে জরিমানা আরোপিত হয় এবং সম্পত্তি হস্তান্তরে বিলম্ব ঘটে।
বিলম্বের ফলে সম্পত্তি বিক্রয়, ঋণ পরিশোধ বা উত্তরাধিকারীকে আর্থিকভাবে প্রভাবিত করার ঝুঁকি বাড়ে; তাই সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
কর দায়বদ্ধতা নিষ্পত্তি না করলে, কর বিভাগ আইনি কার্যক্রম শুরু করতে পারে, যার মধ্যে সম্পত্তি জব্দ বা আদালতে মামলা দায়ের করা অন্তর্ভুক্ত।
এই ধরনের জটিলতা এড়াতে, প্রতিনিধিরা প্রাথমিকভাবে কর অফিসের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ফর্ম ও নির্দেশিকা সংগ্রহ করা উচিত।
প্রতিনিধি যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধন না করেন, তবে কর অফিসে লিখিত আবেদনপত্র ও মৃতের সনদপত্র সংযুক্ত করে নিবন্ধন পরিবর্তনের অনুরোধ করতে হয়।
রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে, শেষ রিটার্নের প্রস্তুতিতে সঠিক আয়, কাটছাঁট ও ছাড়ের হিসাব নিশ্চিত করা দরকার, যাতে অতিরিক্ত কর বা কম করের ঝুঁকি না থাকে।
পরিশোধের জন্য নগদ, চেক বা অনলাইন পেমেন্টের যেকোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়; তবে পেমেন্টের রসিদ সংরক্ষণ করা ভবিষ্যতে কোনো বিরোধের ক্ষেত্রে প্রমাণস্বরূপ কাজ করবে।
বাতিলের আবেদনপত্রে কর পরিশোধের রসিদ, রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তনের নোটিশ এবং প্রতিনিধিত্বের প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হয়।
অনুমোদন পাওয়ার পর, কর বিভাগ ফাইল বন্ধের চূড়ান্ত নোটিশ জারি করে, যা উত্তরাধিকারীকে অফিসিয়ালভাবে জানায় যে আর কোনো কর দায়বদ্ধতা অবশিষ্ট নেই।
এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে, উত্তরাধিকারীকে সম্পত্তি হস্তান্তরের সময় অতিরিক্ত কর বা জরিমানা আরোপিত হতে পারে, যা আর্থিক চাপ বাড়ায়।
সুতরাং, মৃতকরের কর ফাইল বন্ধের সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় নথি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা দরকার; এটি সম্পত্তি বণ্টনের স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করে।
আয়কর আইনের ধারা ১৯৪ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, মৃতের কর দায়বদ্ধতা সম্পূর্ণভাবে তার আইনগত প্রতিনিধির উপর নির্ভরশীল, তাই প্রতিনিধির দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা করা উচিত নয়।
অবহেলার ফলে আর্থিক জরিমানা, সম্পত্তি হস্তান্তরে বাধা এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের ঝুঁকি বাড়ে, যা উত্তরাধিকারী পরিবারকে অপ্রয়োজনীয় কষ্টে ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, মৃত্যুর পর প্রথম দুই সপ্তাহের মধ্যে কর অফিসে নোটিশ প্রদান এবং রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তন সম্পন্ন করা সর্বোত্তম পদ্ধতি।
এছাড়া, কর পরিশোধের আগে পেশাদার হিসাবরক্ষক বা কর পরামর্শকের সাহায্য নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ, যাতে সব দায়বদ্ধতা সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়।
ভবিষ্যতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইন নোটিশ ও ফাইল বন্ধের প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে, তবে বর্তমান সময়ে ম্যানুয়াল পদ্ধতি এখনও প্রধান।
সারসংক্ষেপে, মৃতকরের আয়কর ফাইল বন্ধের জন্য আইনগত প্রতিনিধির দ্রুত পদক্ষেপ, সঠিক নথিপত্র এবং সম্পূর্ণ কর পরিশোধ অপরিহার্য; এই প্রক্রিয়া না মানলে আর্থিক ও আইনি ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।



