কানাডার টেনিস তারকা মিলস রায়নিক, ৩৫ বছর বয়সে, টেনিস থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বার্তায় লিখেছেন, “সময় এসেছে, আমি টেনিস থেকে অবসর নিচ্ছি” এবং এই মুহূর্তের জন্য তিনি সর্বোচ্চ প্রস্তুত বোধ করছেন।
রায়নিকের ক্যারিয়ার ২০১১ সালে প্যাসিফিক কোস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম ATP শিরোপা জেতা দিয়ে শুরু হয়। এরপর তিনি আটটি টুর-লেভেল শিরোপা জিতেছেন এবং ২০১৬ সালে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। একই বছর তিনি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে অর্ধচ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন।
২০১৬ সালের উইম্বলডন টুর্নামেন্টে রায়নিক রজার ফেডারারকে পরাজিত করে ফাইনালে পৌঁছান, তবে ব্রিটিশ তারকা অ্যান্ডি মারে সমন্বিত সরাসরি সেটে হারেন। এই ফাইনাল তার একমাত্র গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হয়।
মাস্টারস ১০০০ সিরিজে রায়নিক চারটি ফাইনালে অংশ নেন, তবে সবই পরাজিত হন। তিনটি ফাইনাল নোভাক জোডোভিচের হাতে এবং একটি রাফেল নাদালের হাতে শেষ হয়। তার শক্তিশালী সার্ভের জন্য তাকে “মিসাইল” উপাধি দেওয়া হয়।
রায়নিকের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ২০২৪ সালের অলিম্পিক গেমসে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিনি জার্মানির ডোমিনিক কোয়েফারকে প্রথম রাউন্ডে পরাজিত হন, যা তার শেষ টুর্নামেন্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তার বার্তায় রায়নিক বলেন, “আমি ভাগ্যবান যে স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি। আট বছর বয়সে টেনিসের সঙ্গে পরিচিতি থেকে আজ পর্যন্ত এটি আমার জীবনের সবকিছু হয়ে উঠেছে।” তিনি টেনিসকে তার জীবনের প্রেম ও আসক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
রায়নিকের জন্ম টিটোগ্রাড, ইউগোস্লাভিয়া (বর্তমানে পডগোরিকা, মন্টেনেগ্রো) এ, এবং তিন বছর বয়সে তিনি কানাডায় স্থানান্তরিত হন। কানাডিয়ান নাগরিকত্ব অর্জনের পর তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের নাম গড়ে তোলেন।
তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল দ্রুত এবং শক্তিশালী সার্ভ, যা প্রতিপক্ষকে প্রায়ই চমকে দিত। এই বৈশিষ্ট্য তাকে টেনিস জগতে আলাদা পরিচয় দিয়েছে এবং ভক্তদের মধ্যে বিশেষ প্রশংসা অর্জন করেছে।
অবসর ঘোষণার পর রায়নিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমি ধীর হব না; জীবনে এখনও অনেক কিছু বাকি আছে। ২০১১ সালে যখন আমি টুর্নামেন্টে প্রবেশ করেছিলাম, তখন যেমন উদ্যম ছিল, তেমনই এখনো আছে।” তিনি নতুন কোনো ক্ষেত্রেই একই পরিশ্রম ও তীব্রতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
রায়নিকের ক্যারিয়ারকে স্মরণ করে টেনিস জগতে বহু বিশ্লেষক তার অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, যদিও এই প্রতিবেদনে কোনো বিশ্লেষণ বা মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তার অবসর টেনিস ভক্তদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা তার দীর্ঘায়ু ও সফল ক্যারিয়ারের সমাপ্তি চিহ্নিত করে।
রায়নিকের অবসর ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তার সামাজিক মাধ্যমে অনুসারীরা শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্তব্য করেছেন, তবে এই প্রতিবেদনে তাদের মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
মিলস রায়নিকের টেনিস থেকে বিদায়ের পর, টেনিস সংস্থা ও তার সহকর্মীরা তার ভবিষ্যৎ উদ্যোগের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। রায়নিকের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে তিনি ইতিমধ্যে নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত বলে প্রকাশ করেছেন।



