গবেষকরা জানিয়েছেন, দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সের শিম্পাঞ্জি শিশুরা গাছের ডাল থেকে ঝাঁপিয়ে পড়া বা শাখা‑শাখা দিয়ে দৌড়ে যাওয়ার প্রবণতা বয়স্ক প্রাপ্তবয়স্কের তুলনায় বেশি। এই ফলাফলটি ৭ জানুয়ারি iScience-এ প্রকাশিত গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাঁচ বছরের পর থেকে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ প্রতি বছরে প্রায় তিন শতাংশ হারে কমে যায়।
মানব সমাজে কিশোর-কিশোরী বয়সের তরুণরা ঝুঁকি‑গ্রহণে শীর্ষে থাকে; তারা হাড় ভাঙা বা আঘাতজনিত মৃত্যুর সম্ভাবনা বেশি। তবে শিম্পাঞ্জি শৈশবের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ যদি মানব শিশুরা একইভাবে পেতে, তা সম্ভবত পিতামাতা ও অন্যান্য তত্ত্বাবধায়কদের কঠোর তদারকি না থাকলে ঘটত। জেমস ম্যাডিসন ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী লরেন সারিংহাউস উল্লেখ করেছেন, যদি মানব সমাজে তত্ত্বাবধানের মাত্রা কমে যায়, তবে শিশুরা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
শিম্পাঞ্জি গোষ্ঠীর যত্নের পদ্ধতি মানবের তুলনায় সরল। মায়েরা প্রধানত একা সন্তান লালন করে, পিতারা সাধারণত সাহায্য করে না, এবং দাদা‑দাদি, বড় ভাইবোন বা গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের অংশগ্রহণ কম। শিম্পাঞ্জি শিশুরা প্রথম পাঁচ বছর মায়ের সঙ্গে লেগে থাকে, তবে দুই বছর বয়সের কাছাকাছি থেকে তারা স্বতন্ত্রভাবে অনুসন্ধান শুরু করে। গাছের উচ্চ শাখায় দোলায়িত শিশুকে মায়ের হস্তক্ষেপ সীমিত, ফলে ঝুঁকি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ে।
মানব গোষ্ঠীতে তত্ত্বাবধায়ক (অ্যালোপ্যারেন্ট) উপস্থিতি একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। পিতামাতা ছাড়াও শিক্ষক, কোচ এবং বিভিন্ন পরিপূরক কার্যক্রমের তত্ত্বাবধায়ক শিশুর বিকাশে ভূমিকা রাখে। আধুনিক পশ্চিমা সমাজে হেলিকপ্টার প্যারেন্টিং বা অতিরিক্ত তত্ত্বাবধানের প্রবণতা বাড়ছে; ফলে শিশুরা পূর্বের প্রজন্মের তুলনায় কম স্বাধীনভাবে খেলাধুলা ও অনাবিষ্কারে সময় কাটায়।
এই পার্থক্যগুলো কীভাবে ঝুঁকি‑গ্রহণের আচরণকে প্রভাবিত করে, তা নিয়ে গবেষণা এখনো সীমিত। ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের মনোবিজ্ঞানী ও প্রাইমাটোলজিস্ট লু হক্স উল্লেখ করেন, তত্ত্বাবধানের ধরন ও ঝুঁকি‑গ্রহণের সম্পর্ক নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এই বিষয়টি ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য উত্তেজনাপূর্ণ একটি ক্ষেত্র, যেখানে এখনো যথেষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা হয়নি।
সারসংক্ষেপে, শিম্পাঞ্জি শৈশবে ঝুঁকি‑গ্রহণের প্রবণতা মানব শিশুর তুলনায় স্বাভাবিকভাবে বেশি, তবে মানব সমাজের বহুমাত্রিক তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা এই প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। তত্ত্বাবধানের মাত্রা ও পদ্ধতি পরিবর্তিত হলে শিশুরা কীভাবে আচরণ করবে, তা নিয়ে গবেষণা বাড়ানো জরুরি। আপনার মতামত কী? তত্ত্বাবধানের ভারসাম্য বজায় রেখে শিশুরা কি আরও স্বাধীনভাবে অন্বেষণ করতে পারবে, নাকি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তীব্র তত্ত্বাবধানই অপরিহার্য?



