বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সোমবার বিকেল ২টায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার মগবাজারে অবস্থিত কমিউনিটি সেন্টার মাঠে অনুষ্ঠিত সিরাজ আহমদের শেষ সমাহারের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি উপস্থিত সকলকে আহ্বান করেন যে, মতবিরোধের উপরে উঠে পারস্পরিক ভাই, বন্ধু ও নাগরিক হিসেবে একসাথে বাস করা উচিত এবং এ জন্য সবাইকে সহযোগিতা করতে অনুরোধ করেন।
সালাহউদ্দিনের এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আরও একবার জোর দিয়ে বলেন, “সবাইকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। জন্মের পরে এটাই মহাসত্য।” এই উক্তি সমাবেশে উপস্থিত ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মনোযোগ আকর্ষণ করে।
সমাহারটি চকরিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আলমগীর চৌধুরীর পিতার, সিরাজ আহমদের শেষ যাত্রা উপলক্ষে আয়োজন করা হয়। সিরাজ আহমদ রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাত তার নিজ বাসভবনে, চকরিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাহারিয়া ঘোনাস্থে, দীর্ঘস্থায়ী বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর পরপরই পরিবার ও স্থানীয় নেতারা সমাবেশের আয়োজন করেন, যেখানে হাজারো মুসল্লি উপস্থিত হন।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক, প্রাক্তন সংসদ সদস্য ই.এইচ. সালাহউদ্দিন মাহমুদ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বহু জন উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতির পরিমাণ ও বহুমুখী রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এই সমাবেশকে একধরনের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে।
সালাহউদ্দিনের উক্তি, বিশেষ করে “মতভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সামাজিকভাবে পারস্পরিক ভাই, বন্ধু, নাগরিক হিসেবে বসবাস” করার আহ্বান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের সমন্বয় ও ঐক্য কেবল ব্যক্তিগত স্তরে নয়, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও অপরিহার্য।
বিএনপি এবং অন্যান্য দলগুলোর নেতারা সমাবেশে একত্রিত হওয়া, স্থানীয় স্তরে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার সম্ভাবনা নির্দেশ করে। বিশেষ করে, চকরিয়া অঞ্চলে আসন্ন পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের সমাবেশ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্পর্কের সূচক হতে পারে।
সিরাজ আহমদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে পরিবার জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বয়সজনিত রোগে ভুগছিলেন এবং চিকিৎসা সেবার পরেও স্বাস্থ্যের অবনতি অব্যাহত ছিল। তার মৃত্যুর পরপরই পরিবার ও সমাবেশের আয়োজকরা তার শেষ যাত্রা সম্পন্ন করার জন্য যথাযথ ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করেন।
সমাবেশে উপস্থিত ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সমবেদনা স্পষ্ট ছিল। সালাহউদ্দিনের উক্তি, “মতভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সামাজিকভাবে পারস্পরিক ভাই, বন্ধু, নাগরিক হিসেবে বসবাস” করার আহ্বান, ভবিষ্যতে স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনায় একধরনের সেতু হিসেবে কাজ করতে পারে।
এই সমাবেশের মাধ্যমে দেখা যায়, কক্সবাজারের চকরিয়া অঞ্চলে রাজনৈতিক পার্থক্য সত্ত্বেও মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে একত্রিত হওয়া সম্ভব। ভবিষ্যতে এই ধরনের সমাবেশ ও ঐক্যের আহ্বান, স্থানীয় রাজনৈতিক মঞ্চে শান্তিপূর্ণ প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য ও সমাবেশের উপস্থিতি, কেবল সিরাজ আহমদের শেষ সমাহারই নয়, বরং কক্সবাজারের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে—মতবিরোধের উপরে উঠে একসাথে বাস করা, যা দেশের সামগ্রিক ঐক্য ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।



