ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ও বণিক বার্তা যৌথভাবে ১২ জানুয়ারি সোমবার ক্যাম্পাসের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ প্রাঙ্গণে নবম নন‑ফিকশন বইমেলা আয়োজন করে। সমাপনী অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তথ্যের প্রাচুর্য সত্ত্বেও জ্ঞানের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আধুনিক সমাজে তথ্য সহজলভ্য হলেও তা সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে জ্ঞান গঠন করা এখনো চ্যালেঞ্জ।
আবরার বলেন, এই জ্ঞান ঘাটতি পূরণে নন‑ফিকশন বা তথ্যভিত্তিক বইয়ের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি যুক্তি দেন, বাস্তবিক তথ্য, গবেষণা ও বিশ্লেষণ সম্বলিত গ্রন্থগুলো পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে এবং সমালোচনামূলক চিন্তাধারার ভিত্তি গড়ে তোলে। এ ধরনের বইগুলো শুধুমাত্র তথ্য সরবরাহ করে না, বরং পাঠকের মধ্যে প্রশ্ন করার মনোভাব জাগিয়ে তোলে।
উপদেষ্টা আরও জোর দিয়ে বলেন, নিজের ওপর প্রশ্ন তোলাই সমাজকে শক্তিশালী করে। প্রশ্ন করার সাহস অর্জনের অন্যতম উপায় হল নিয়মিত নন‑ফিকশন পাঠ। তিনি উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন, যখন কেউ কোনো বিষয়ের গভীরতা বুঝতে চায়, তখন সে স্বয়ং প্রশ্ন করে এবং উত্তর অনুসন্ধান করে; এই প্রক্রিয়াই বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের মূল চালিকাশক্তি।
অধ্যাপক আবরার শিক্ষার্থীদের পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি তর্ক, আলোচনা ও চিন্তার মাধ্যমে জ্ঞানকে জীবন্ত করতে উৎসাহিত করেন। শিক্ষার্থীরা যদি নিয়মিত তথ্যভিত্তিক গ্রন্থে ডুবে থাকে, তবে তারা শুধু তথ্যই শোষণ করবে না, বরং তা বিশ্লেষণ করে নিজের মত গঠন করতে পারবে। এভাবে তারা ভবিষ্যতে সমাজের গঠনমূলক অংশ হিসেবে কাজ করতে সক্ষম হবে।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বকে শুধুমাত্র ডিগ্রি প্রদান নয়, বরং সমগ্র সমাজকে চিন্তা করতে শেখানো হিসেবে তুলে ধরেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তা, যুক্তি ও বিশ্লেষণ দক্ষতা গড়ে তোলার সুযোগ দেয়, তবে তা দেশের বৌদ্ধিক সম্পদকে সমৃদ্ধ করবে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে নন‑ফিকশন বইমেলা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ‑উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। তিনি নন‑ফিকশন পাঠের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি করে তথ্যভিত্তিক গ্রন্থে মনোযোগ দিতে উৎসাহিত করেন। তার বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, জ্ঞান অর্জনের পথে বইমেলা একটি সরাসরি সংযোগের সেতু হিসেবে কাজ করে।
এই বছরের বইমেলায় দেশের ৩৯টি প্রকাশনা ও গবেষণা সংস্থা অংশগ্রহণ করে। বিভিন্ন শাখার তথ্যভিত্তিক গ্রন্থ, গবেষণা প্রতিবেদন ও শিক্ষামূলক উপকরণ একত্রিত হয়ে একটি সমৃদ্ধ সংগ্রহ তৈরি করেছে। অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড় ও সেমিনারও আয়োজন করেছে, যা পাঠের আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ মিনিট নন‑ফিকশন বই পড়ার জন্য সময় নির্ধারণ করুন এবং পড়া শেষে মূল ধারণা নোট করুন। প্রশ্ন উত্থাপন করে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি যাচাই করুন, এবং বন্ধু বা সহপাঠীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ধারণা শেয়ার করুন। আপনার পাঠের অভ্যাস কীভাবে আপনার চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করছে, তা নিয়ে একবার ভাবুন।



