ইংল্যান্ডে জুন মাসে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি ইতিমধ্যে ১ লক্ষের বেশি পৌঁছে, যা ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত নারী একদিনের বিশ্বকাপের মোট বিক্রির সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ ১২ জুন নির্ধারিত, এবং টিকিট বিক্রি শুরুর পাঁচ মাস আগে থেকেই এই মাত্রা অর্জিত হয়েছে।
ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) টিকিটের এই চাহিদাকে নারী ক্রীড়ার নতুন উত্সাহের সূচক হিসেবে দেখছে। ফুটবলে লায়নেসেস এবং রাগবিতে রেড রোজেসের সাম্প্রতিক সাফল্যের পর, এই গ্রীষ্মে নারী ক্রিকেটও যুক্তরাজ্যের খেলাধুলার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক গড়ে তুলতে পারে বলে তারা আশাবাদী।
২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত নারী একদিনের বিশ্বকাপে হোস্ট দেশই শিরোপা জিতেছিল, এবং লর্ডসের স্মরণীয় ফাইনাল সেই সময়ের জনপ্রিয়তা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে। সেই পর থেকে নারী ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি আসে ‘দ্য হানড্রেড’ প্রতিযোগিতার সূচনার মাধ্যমে, যা নতুন প্রতিভা ও দর্শকসংখ্যা উভয়ই বৃদ্ধি করেছে।
ইংল্যান্ড দলকে যদিও টুর্নামেন্টের ফেভারিটদের মধ্যে রাখা হয়েছে, তবু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে তারা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। গত তিনটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো একটিতেও ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি, এবং গত বছরের একদিনের বিশ্বকাপে নতুন কোচ শার্লট এডওয়ার্ডসের অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সেমিফাইনালে পরাজিত হয়।
এডওয়ার্ডস বিশ্বাস করেন, ঘরের মাঠে খেলা দলকে শিরোপার স্বপ্ন দেখাতে বড় সহায়তা করবে। তিনি ২০০৯ সালে প্রথম নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে শিরোপা জিতেছিলেন, এবং এখন আবার এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দলকে গাইড করতে চান। “ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা দলের জন্য বড় ভূমিকা রাখে; এতে শুধু দল নয়, পুরো খেলাটাই উপকৃত হয়,” তিনি বলেন।
এই টুর্নামেন্টে মোট বারোটি দল অংশগ্রহণ করবে, এবং ইংল্যান্ডের গ্রুপ ম্যাচ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে লর্ডসে শুরু হবে। একই গ্রুপে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দুইটি কোয়ালিফাইং দল, যাদের সঙ্গে ইংল্যান্ডকে গ্রুপ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
চূড়ান্ত ম্যাচ ৫ জুলাই লর্ডসে অনুষ্ঠিত হবে, তবে টুর্নামেন্টের অন্যান্য ম্যাচগুলো হেডিংলি, ওল্ড ট্রাফোর্ড, দ্য ওভাল, ব্রিস্টল এবং সাউদাম্পটনে ভাগ করা হয়েছে। এই বিস্তৃত ভেন্যু নেটওয়ার্ক দর্শকদের বিভিন্ন শহরে ম্যাচ উপভোগের সুযোগ দেবে এবং ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা আরও বাড়াবে।
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ন্যাট স্কিভার-ব্রান্ট টিকিট বিক্রির এই সাফল্যকে দলকে অনুপ্রাণিত করার একটি শক্তিশালী উপাদান হিসেবে দেখছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এত বড় পরিমাণে টিকিট বিক্রি আমাদেরকে আত্মবিশ্বাস দেয় এবং ঘরের সমর্থন আমাদের শিরোপার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।” তার এই মন্তব্য টিমের মনোবল বাড়াতে সহায়ক হবে।
ইসিবি টিকিট বিক্রির এই রেকর্ডকে নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য করেছে এবং আশা প্রকাশ করেছে যে এই গ্রীষ্মে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে। টুর্নামেন্টের শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ভক্তদের উচ্ছ্বাস এবং মিডিয়ার মনোযোগ বাড়বে, যা নারী ক্রীড়া সংস্কৃতির বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সারসংক্ষেপে, ২০২৬ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি ইতিমধ্যে ঐতিহাসিক রেকর্ড ভাঙে, এবং ইংল্যান্ডের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নারী ক্রিকেটের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা রাখে।



