28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্প-ফেড রিজার্ভের উত্তেজনা বাড়ল, জেরোম পাওয়েল ডি.ও.জি.এর অভিযোগের প্রতিবাদে

ট্রাম্প-ফেড রিজার্ভের উত্তেজনা বাড়ল, জেরোম পাওয়েল ডি.ও.জি.এর অভিযোগের প্রতিবাদে

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ার জেরোম পাওয়েল আজকের সকালে এক নতুন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন। ট্রাম্পের দল ফেডের ভবন সংস্কার প্রকল্পের খরচ নিয়ে অভিযোগ তুলছে, আর পাওয়েল ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসের (ডি.ও.জি.) অপরাধমূলক অভিযোগকে প্রেসিডেন্টের চাপের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। উভয় পক্ষের এই টানাপোড়েনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা নীতি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

ফেডারেল রিজার্ভের ভবন সংস্কার প্রকল্পের খরচের ওপর ট্রাম্পের বিরোধ দীর্ঘদিনের বিষয়। প্রেসিডেন্টের দল দাবি করে যে কাজের ব্যয় অনুমানিতের চেয়ে বেশি, আর ফেডের ব্যবস্থাপনা এটিকে স্বাভাবিক বলে বিবেচনা করে। ট্রাম্পের গাড়ি-দলও সম্প্রতি ফেডের ভবনে গিয়ে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছে, যা এই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে।

বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্প প্রশাসন ফেডের সুদের হার নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রেসিডেন্টের পছন্দের অর্থনীতিবিদদের নিয়োগ এবং সরাসরি সমালোচনা দিয়ে তিনি ফেডের স্বায়ত্তশাসনকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, যার লক্ষ্য সুদের হারকে নিম্নমুখী করা। এই প্রচেষ্টা ফেডের স্বতন্ত্র নীতিনির্ধারণের নীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

সকালবেলায় পাওয়েল একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে ডি.ও.জি.এর তার সংস্থার ওপর আনা অপরাধমূলক অভিযোগের কথা জানিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই পদক্ষেপটি ফেডের সুদের হার নির্ধারণে তার স্বতন্ত্র মূল্যায়নের ফলে হয়েছে, যা প্রেসিডেন্টের পছন্দের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। পাওয়েল বলেন, এই অভিযোগগুলোকে এক ধরনের প্রস্তাবনা হিসেবে দেখা উচিত, যা প্রশাসনের ধারাবাহিক হুমকি ও চাপের প্রেক্ষাপটে ঘটেছে।

পাওয়েল আরও স্পষ্ট করেন যে ভবন সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়গুলো কেবলমাত্র অজুহাতের কাজ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফেডের সুদের হার নির্ধারণে জনসাধারণের মঙ্গলের জন্য সর্বোত্তম মূল্যায়ন করা হয়, এবং তা প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে নয়। এই ব্যাখ্যা ডি.ও.জি.এর পদক্ষেপকে ফেডের স্বায়ত্তশাসনের প্রতি সরাসরি আক্রমণ হিসেবে উপস্থাপন করে।

এধরনের সংঘাতের আন্তর্জাতিক উদাহরণও আছে। তুরস্ক এবং জিম্বাবুয়ে মতো উদীয়মান অর্থনীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনকে সরকারী হস্তক্ষেপের মুখে দেখা গেছে। ঐ দেশগুলোতে স্বতন্ত্র নীতিনির্ধারকরা প্রায়শই নির্বাচিত সরকারের চাপে কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হন, যা ফেডের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনীয়।

এই ঘটনার পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যদি ফেডের স্বায়ত্তশাসন দুর্বল হয়ে যায়, তবে সুদের হার নির্ধারণে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বাড়তে পারে, যা বাজারের অস্থিরতা ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে, ডি.ও.জি.এর এই ধরনের আইনি পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অন্যান্য স্বতন্ত্র সংস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

অবশেষে, ট্রাম্প ও পাওয়েলের এই দ্বন্দ্বের পরবর্তী ধাপগুলো আন্তর্জাতিক আর্থিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ঘনিষ্ঠ নজরদারিতে থাকবে। ফেডের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপকে সীমিত করা উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা নীতি ও বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments