সিডনি থান্ডারের বিপক্ষে মেলবোর্ন রেনেগেডসের ২০ ওভারের ম্যাচে রিটায়ার্ড আউটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাকিস্তানীয় উইকেটকিপার‑ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ১৮তম ওভারে মাঠ ত্যাগ করেন, যা বিগ ব্যাশ লিগে বিদেশি ব্যাটার হিসেবে প্রথম রিটায়ার্ড আউটের ঘটনা।
ম্যাচের ১৮তম ওভারে রেনেগেডসের স্কোর ছিল ৪ উইকেটের সঙ্গে ১৫৪ রান। রিজওয়ান ২৩ ball-এ ২৬ রান যোগ করে, যার মধ্যে দুইটি চার এবং একটি ছক্কা ছিল। তবে তার স্ট্রাইক রেট মাত্র ১১৩, যা শেষের ওভারগুলোতে দলের দ্রুত রান সংগ্রহের প্রয়োজন মেটাতে যথেষ্ট দ্রুত না বলে বিবেচিত হয়।
রিজওয়ানের ধীরগতির ব্যাটিং নিয়ে ম্যাচ চলাকালেই বিশ্লেষক ও মন্তব্যকারীরা মতামত প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন, যদি রিজওয়ানকে আগে রিটায়ার্ড আউট করা হতো, তবে রেনেগেডসের বড় স্কোর গড়ার সম্ভাবনা বাড়ত। শেষের ওভারগুলোতে রেট বাড়াতে না পারা দলকে চাপের মুখে ফেলেছিল।
রেনেগেডসের অধিনায়ক উইল সাদারল্যান্ড রিজওয়ানের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে তাকে মাঠ থেকে সরিয়ে দেন। রিজওয়ান ড্রেসিং রুমে ফিরে যান এবং পরবর্তীতে কোনো ব্যাটিং সুযোগ পাননি। এই সিদ্ধান্তের ফলে BBL ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিদেশি ব্যাটার রিটায়ার্ড আউটের রেকর্ড তৈরি হয়।
রিজওয়ানের বিদায়ের পর রেনেগেডসের স্কোর ২০ ওভারে ৮ উইকেটের সঙ্গে ১৭০ রান হয়ে শেষ হয়। তবে বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি ১৬ ওভারে নামিয়ে আনা হয়, ফলে সিডনি থান্ডারের লক্ষ্য ১৪০ রান নির্ধারিত হয়। থান্ডার ১৫.২ ওভারে ৪ উইকেটের সঙ্গে লক্ষ্য অতিক্রম করে জয় নিশ্চিত করে।
এটি রিজওয়ানের প্রথম BBL মৌসুম। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি আটটি ম্যাচে মোট ১৬৭ রান সংগ্রহ করেছেন, যার স্ট্রাইক রেট ১০০‑এর সামান্য বেশি। তার মোট স্কোর এবং গড় গতি নিয়ে কোচ ও বিশ্লেষকরা টিকটিক করে, T20 ফরম্যাটে স্ট্রাইক রেটের গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেছেন।
বিগ ব্যাশ লিগে এই মৌসুমে দ্বিতীয়বার কোনো ব্যাটারকে রিটায়ার্ড আউট করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি T‑২০ ক্রিকেটে কৌশলগত পরিবর্তন, ব্যাটিং গতি এবং স্কোরিং পদ্ধতি নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে। বিশেষ করে বিদেশি খেলোয়াড়দের ভূমিকা ও তাদের ইনিংসের গতি নিয়ে দলীয় পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।
রেনেগেডসের পরবর্তী ম্যাচে তারা আবারও অস্ট্রেলিয়ান দলের মুখোমুখি হবে, যেখানে রিজওয়ানের অভাব দলের ব্যাটিং শক্তিকে কীভাবে প্রভাবিত করবে তা নজরে থাকবে। একই সঙ্গে সিডনি থান্ডারও তাদের পরবর্তী শিডিউলে উচ্চ স্কোরের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিগ ব্যাশ লিগের এই ঘটনা টি‑২০ ক্রিকেটে রিটায়ার্ড আউটের ব্যবহারকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করার সুযোগ দিচ্ছে। দলীয় কৌশল, ব্যাটিং গতি এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।



