23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাট্রাম্পের ক্রেডিট কার্ড সুদের হার ১০% সীমা আহ্বান শেয়ার বাজারে চাপ সৃষ্টি

ট্রাম্পের ক্রেডিট কার্ড সুদের হার ১০% সীমা আহ্বান শেয়ার বাজারে চাপ সৃষ্টি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার এক বছরের জন্য সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ রাখতে দাবি জানিয়েছেন। তিনি এই আহ্বান তার সামাজিক নেটওয়ার্ক ট্রুথ সোশ্যাল-এ প্রকাশ করেন, কার্যকর তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০২৬ নির্ধারিত।

ট্রাম্পের পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এক বছর পর এই সীমা আরোপের মাধ্যমে আমেরিকান ভোক্তাদের অতিরিক্ত চার্জ থেকে রক্ষা করা হবে। তবে তিনি কীভাবে এই সীমা বাস্তবায়ন করা হবে বা আইনি ভিত্তি কী হবে তা স্পষ্ট করেননি।

এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক ও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যুক্তরাজ্যের বড় ব্যাংক বার্কলেস, যার যুক্তরাষ্ট্রে উল্লেখযোগ্য ক্রেডিট কার্ড ব্যবসা রয়েছে, তার শেয়ার ৩.৫ শতাংশ হ্রাস পায়। একই সময়ে আমেরিকান এক্সপ্রেস, ভিসা ও মাস্টারকার্ডের শেয়ারও প্রিমার্কেট ট্রেডে নেমে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ব্যাংকগুলোর শেয়ারও নিম্নমুখী হয়। জেপি মরগান চেজের শেয়ার প্রায় ৩.২ শতাংশ কমে, ব্যাংক অফ আমেরিকার শেয়ার ২.৫ শতাংশ হ্রাস পায়। ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিগুলোর মধ্যে আমেরিকান এক্সপ্রেসের শেয়ার ৪ শতাংশ, ভিসার শেয়ার ১.২ শতাংশ এবং মাস্টারকার্ডের শেয়ার ২ শতাংশ নেমে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং সমিতি এই সীমা আরোপকে কঠিন বলে সমালোচনা করে। তারা যুক্তি দেন, সুদের হার সীমাবদ্ধ করলে ক্রেডিটের প্রাপ্যতা কমে যাবে এবং ছোট ব্যবসা ও গৃহস্থালির জন্য ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। সমিতি এটিকে “মিলিয়ন পরিবারের জন্য ধ্বংসাত্মক” বলে উল্লেখ করে।

আইনি দিক থেকে এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষজ্ঞরা জানিয়ে দেন, সুদের হার সীমা আরোপের জন্য কংগ্রেসের মাধ্যমে আইন পাস করা প্রয়োজন, অন্যথায় প্রেসিডেন্টের একক নির্দেশে তা বাধ্যতামূলক হবে না।

ডেমোক্র্যাট সেনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ট্রাম্পের এই দাবিকে “একটি রসিকতা” বলে সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এক বছর আগে তিনি ট্রাম্পের প্রতি দৃঢ় অবস্থান নিয়ে এই ধরনের আইন পাসের জন্য কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সুদের হার সীমা আরোপ করা সম্ভব নয়। আইন প্রণেতারা জানিয়েছেন, এই ধরনের সীমা কার্যকর করতে হলে হাউস ও সেনেট উভয়ই একমত হতে হবে এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে।

গত বছর সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও জোশ হলি একটি দ্বিপাক্ষিক বিল প্রস্তাব করেন, যা ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার পাঁচ বছরের জন্য ১০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য রাখে। তবে এখনো সেই বিল পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়নি।

সীমা আরোপের ফলে ক্রেডিটের প্রাপ্যতা হ্রাস পেলে ভোক্তাদের ঋণ গ্রহণের সুযোগ কমে যাবে, বিশেষ করে যারা উচ্চ সুদের হারে ঋণ নিতে বাধ্য। এটি ছোট ব্যবসার নগদ প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ধীর করতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন, যদি সুদের হার সীমা বাস্তবায়িত হয়, তবে ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিগুলো তাদের লাভের মার্জিন কমাতে বাধ্য হবে, যা শেয়ার মূল্যে দীর্ঘমেয়াদে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে ভোক্তাদের জন্য স্বল্পমেয়াদে সুদের বোঝা কমে যাবে, তবে ক্রেডিটের প্রাপ্যতা সীমিত হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের সুদের হার সীমা আহ্বান শেয়ার বাজারে তাত্ক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, আর আইনগত বাধা ও ব্যাংকিং সমিতির উদ্বেগের কারণে এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন এখনও অনিশ্চিত। ভবিষ্যতে কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত এবং বাজারের প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করবে এই নীতির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments