ইরানের দক্ষিণ ফারস প্রদেশের নেয়রিজে ৩ জানুয়ারি লাইভ গুলি চালিয়ে এক তরুণ রেফারি নিহত হয়। একই সময়ে, তেহরানে ২৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই দুজনের পাশাপাশি দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবাদে প্রায় পাঁচশত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। সরকারী নিরাপত্তা বাহিনীর ৪৮ জন সদস্যও একই সময়ে নিহত হয়েছে।
২৬ বছর বয়সী কোহকান, যিনি স্থানীয় ফুটবল কোচ হিসেবে কাজ করতেন, তার বন্ধু জানান যে তিনি লাইভ গুলির শিকার হন। বন্ধু বলছেন, কোহকানকে সবাই তার দয়ালু স্বভাবের জন্য চেনে এবং তার পরিবার এখন শোক ও ক্রোধে ভুগছে, কারণ তিনি শাসনের গুলিতে মারা গেছেন। যদিও বন্ধু সরাসরি ঘটনাস্থলে ছিলেন না, তবে তিনি সাক্ষীদের কথায় এই তথ্য পেয়েছেন।
২৩ বছর বয়সী রুবিনা আমিনিয়ান, তেহরানের এক প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার সময় পেছন থেকে গুলি খেয়ে নিহত হন। তার চাচা জানান, রুবিনা এমন বিষয়ের জন্য লড়াই করছিলেন, যা তিনি সঠিক বলে বিশ্বাস করতেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলি এই ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার গোষ্ঠী জানায়, দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রায় পাঁচশত প্রতিবাদকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো আরও ইঙ্গিত দেয় যে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে বেশি হতে পারে।
প্রদর্শনাগুলি ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সমস্যার প্রতিবাদে তেহরানে শুরু হয় এবং দ্রুত ১৮৬টি শহর ও সব ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থা (HRANA) অনুসারে, এই প্রতিবাদগুলো বছরের সর্ববৃহৎ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং ইস্লামিক প্রজাতন্ত্রের অবসান ও সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসন শেষ করার দাবি করে।
প্রদর্শনকারীরা সরকারকে দায়িত্বশীল অর্থনৈতিক নীতি এবং রাজনৈতিক সংস্কারের আহ্বান জানাচ্ছেন, পাশাপাশি ধর্মীয় নেতার একনায়কত্বের সমাপ্তি চাচ্ছেন। এই দাবিগুলি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
সরকারের কঠোর দমনমূলক পদক্ষেপে অন্তত ১০,৬০০ জন আটক হয়েছে এবং HRANA অনুযায়ী ৪৯৬ জন প্রতিবাদকারী নিহত হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর সংখ্যা পূর্বে উল্লেখিত ৪৮ জনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
ইরানের চিকিৎসা কর্মীরা জানান, হাসপাতালে মৃত ও আহত রোগীর সংখ্যা অতিরিক্ত হয়ে গেছে। ৯ জানুয়ারি রাস্ট শহরের পোরসিনা হাসপাতালে একসাথে ৭০টি দেহ পৌঁছায়, আর তেহরানের নিকটস্থ এক মরগে একই রাতে ১৮০টি দেহের ব্যাগ দেখা গিয়েছে।
ইরান সরকার বৃহস্পতিবার থেকে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলি দেশের ভিতরে সরাসরি তথ্য সংগ্রহে অক্ষম। এই পরিস্থিতি তথ্য যাচাই ও প্রতিবেদনকে কঠিন করে তুলেছে।
রেফারি কোহকান ও শিক্ষার্থী রুবিনার মৃত্যু সহ শত শত প্রাণহানি ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার তীব্রতা প্রকাশ করে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক আলোচনার দিক নির্ধারণে এই ঘটনার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হবে।



