কর্ণাটকের জনপ্রিয় কন্নড় চলচ্চিত্র ‘টক্সিক: এ ফেয়ারি টেল ফর গ্রাউন‑অপস’ এর টিজার ৮ জানুয়ারি, অভিনেতা যশের ৪০তম জন্মদিনের সঙ্গে প্রকাশিত হওয়ার পর এএপি নারী শাখা থেকে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানানো হয়েছে। টিজারটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পেয়ে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তবে একই সঙ্গে কিছু দৃশ্যকে অশ্লীল ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ক্ষতিকারক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
টিজারটি দৃশ্যত সাহসী ও স্টাইলিশ রূপে নির্মিত, যেখানে যশ ও এক নারী গাড়ির ভেতরে সংক্ষিপ্ত অন্তরঙ্গ মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া দেখা যায়। এই দৃশ্যটি কিছু দর্শকের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছে, তবে অন্যদিকে সাধারণ দর্শক ও পরিবারিক গোষ্ঠী এটিকে অপ্রয়োজনীয় এবং সকল বয়সের জন্য অনুপযুক্ত বলে সমালোচনা করেছে।
এএপি নারী শাখা টিজারটির কিছু দৃশ্যকে ‘অশ্লীল ভিজ্যুয়াল’ হিসেবে চিহ্নিত করে, যা নারী ও শিশুর সামাজিক মঙ্গলকে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং কন্নড় সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে দুর্বল করতে পারে বলে অভিযোগ করেছে। শাখা উল্লেখ করেছে যে, এমন ধরনের কন্টেন্টের অনুপযুক্ত প্রকাশ সমাজের নৈতিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
অভিযোগের মধ্যে টিজারটি অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা, সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে মুছে ফেলা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ কন্টেন্টের প্রচার সীমিত করা যায়। এছাড়া, শাখা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সাংস্কৃতিক দায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে।
এএপি স্টেট সেক্রেটারি উশা মোহন অভিযোগ দাখিলের পর টিজারটি কোনো বয়স সীমা বা বিষয়বস্তু সতর্কতা ছাড়াই প্রকাশিত হওয়াকে প্রধান সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের প্রকাশনা নারী মর্যাদাকে হ্রাস করে এবং নাবালকদের জন্য অনুপযুক্ত কন্টেন্টের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই তিনি কমিশন ও রাজ্য সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
কর্ণাটক স্টেট উইমেনস কমিশন অভিযোগটি গ্রহণ করেছে এবং প্রযোজ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছে। এখনো পর্যন্ত কমিশন থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর বা পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে অভিযোগের গৃহীত হওয়ায় বিষয়টি পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
‘টক্সিক’ ছবিতে যশের পাশাপাশি নায়নথারা ও কিয়ারা এ নামের দুইজন প্রধান অভিনেত্রীর অংশগ্রহণ রয়েছে। চলচ্চিত্রটি বড় বাজেটের প্রোডাকশন হিসেবে পরিচিত এবং প্রি-রিলিজ প্রচার কার্যক্রমে টিজারটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। টিজার প্রকাশের পর থেকে চলচ্চিত্রের রিলিজ তারিখ ও বাজারের প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।
এই বিতর্কটি ভারতীয় চলচ্চিত্র বিজ্ঞাপনের সীমা ও দায়িত্ব নিয়ে চলমান জনমত গঠনের একটি নতুন পর্যায়ের সূচনা করেছে। শিল্পের সৃজনশীল স্বাধীনতা ও সামাজিক নৈতিকতার মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার প্রশ্নটি এখন নীতি নির্ধারক, শিল্পী ও দর্শকদের মধ্যে তীব্র আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাঠকদের জন্য পরামর্শ হিসেবে বলা যায়, টিজার বা কোনো অনলাইন কন্টেন্ট দেখার সময় বয়স সীমা ও বিষয়বস্তু সতর্কতা বিবেচনা করা উচিত। পাশাপাশি, সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করার আগে তার প্রভাব ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি, যাতে সকলের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ বজায় থাকে।



