ইংলিশ উইমেন্স সুপার লিগে গত সপ্তাহে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে। আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ০-০ সমান স্কোরে শেষ করেছে, আর ম্যানচেস্টার সিটি ইভারটনের মুখোমুখি হয়ে ২-০ জয়লাভ করেছে। উভয় ম্যাচেই ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।
আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ড্র ম্যাচে গেমের মাঝামাঝি সময়ে গোলকিপার ফ্যালন টুলিস-জয়েসকে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কোচরা এই সময়ে ট্যাকটিক্যাল আলোচনা চালিয়ে গিয়েছিলেন, যা দর্শক ও টিভি দর্শকদের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে। ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার ডোমিনিক জ্যানসেন এই ঘটনার পর মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় উল্লেখ করেন যে, টুলিস-জয়েসের আঘাতের পর দলকে কৌশল পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
আর্সেনাল কোচ মার্ক স্কিনার পরে জানান যে টুলিস-জয়েসের শারীরিক অস্বস্তি ছিল এবং তিনি চিকিৎসা সেবা পেয়েছিলেন। রেনি স্লেগার্সও সময়ের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দর্শক এবং টেলিভিশন দর্শকদের জন্য ম্যাচের আকর্ষণ বজায় রাখতে এমন ঘটনা এড়ানো দরকার।
ইউনাইটেডের ১০ জন খেলোয়াড়ে কমে যাওয়া অবস্থায় কিভাবে তারা মানিয়ে নেয়েছিল তা নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়, তবে উভয় দলে কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচটি শেষ হয় শূন্য-শূন্য ফলাফলে।
অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটি শীতকালীন বিরতি পার করে ইভারটনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। সিটি ২-০ স্কোরে জয়লাভ করে, যার ফলে তারা লিগে সর্বোচ্চ গোলের সংখ্যা বজায় রেখেছে, অন্য সব দলের তুলনায় দশটি বেশি গোল করেছে।
সিটির আক্রমণাত্মক শক্তি স্পষ্ট ছিল: মোট ৩২টি শট, যার মধ্যে ১৩টি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছেছে, এবং প্রত্যাশিত গোলের মান (xG) ৪.২৭। এই পরিসংখ্যানগুলো দেখায় যে দলটি শটের গুণগত মানেও শীর্ষে রয়েছে।
ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড কেরোলিনের ফিরে আসা সিটির আক্রমণে নতুন গতিশীলতা যোগ করেছে। ইভারটনের রক্ষায় বানি শোর গোল করার সুযোগ কমে গিয়েছিল, তবে শো এবং ভিভিয়ান্নে মিয়েডেমার মধ্যে সমন্বয় উন্নত হয়েছে, যা সিটির দ্বিতীয় গোলের সৃষ্টিতে সহায়তা করেছে।
ইভারটনের গোলকিপার কোর্টনি ব্রসনানও উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন; তিনি ১১টি শট রোধ করে দলের স্কোরকে সম্মানজনক রেখেছেন। তার রক্ষার ফলে ইভারটনের আক্রমণাত্মক চাপ কিছুটা কমে গিয়েছিল।
শীতকালীন বিরতি সিটির গতি কমায়নি, বরং দলকে আরও সুনির্দিষ্ট ট্যাকটিক্সে পরিণত করেছে। কোচ অ্যান্ড্রে জেগ্লের্টজের নেতৃত্বে সিটি ধারাবাহিকভাবে উচ্চ শট সংখ্যা এবং লক্ষ্যবস্তু শটের অনুপাত বজায় রেখেছে।
এই দুই ম্যাচের পরবর্তী সূচি নিয়ে নজর দেওয়া যায়। আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পরবর্তী ম্যাচে উভয় দলই লিগের শীর্ষস্থান রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহের লক্ষ্য রাখবে। সিটি ইভারটনের পরের প্রতিপক্ষের সঙ্গে আবারও গোলের সুযোগ বাড়াতে চায়।
অন্যদিকে, ওয়েস্ট হ্যামের নতুন খেলোয়াড় এস্টেল ক্যাসকারিনো ‘ইয়ারিং-গেট’ নামে পরিচিত সমস্যার কারণে এখনও ডেবিউ নিতে পারেননি। এই বিষয়টি ক্লাবের প্রস্তুতি এবং খেলোয়াড়ের শারীরিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সারসংক্ষেপে, এই সপ্তাহের WSL ম্যাচগুলোতে ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত, খেলোয়াড়ের শারীরিক অবস্থা এবং দলীয় আক্রমণাত্মক দক্ষতা প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। লিগের শীর্ষে থাকা দলগুলো কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে, তা ভবিষ্যৎ ম্যাচে স্পষ্ট হবে।



