20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিযুক্তরাষ্ট্রের নতুন জোটে ভারতের পূর্ণ সদস্যপদ আমন্ত্রণের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জোটে ভারতের পূর্ণ সদস্যপদ আমন্ত্রণের ঘোষণা

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিযুক্ত হবু ভারত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর দিল্লিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, ওয়াশিংটন সিলিকন, সেমিকন্ডাক্টর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে একটি নতুন জোট গড়ে তুলতে চায়। গোরের মতে, এই জোটের পূর্ণ সময়ের সদস্য হিসেবে ভারতকে আগামী মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল উভয় দেশের প্রযুক্তি নির্ভরতা কমিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বৃদ্ধি করা। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের পেছনে সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ শৃঙ্খলে বৈশ্বিক চাপ এবং এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশকে বিবেচনা করা হয়েছে। গোর উল্লেখ করেন, জোটের সদস্যপদ শুধুমাত্র প্রযুক্তি ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা, জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও সমন্বয় বাড়বে।

গোরের সঙ্গে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকজন দূত দিল্লিতে পৌঁছেছেন, তবে তার কূটনৈতিক নথিপত্র এখনও ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে জমা হয়নি। প্রথা অনুসারে, রাষ্ট্রপতির কাছে নথিপত্র জমা হওয়ার পরই দূতজন জনসমক্ষে বক্তব্য দিতে পারেন। সূত্র অনুযায়ী, নথিপত্র এই সপ্তাহের শেষের দিকে জমা হতে পারে।

এই কূটনৈতিক গতিবিধি ঘটছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। যদিও দুই দেশ বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্ত রূপে পৌঁছাতে এখনও ব্যর্থ, তবে উভয় পক্ষই আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে। গোরের মন্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বললেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে হবে।

গোর, যিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচিত, গত নভেম্বর হোয়াইট হাউসে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে শপথ নেন। তার পূর্বে অক্টোবর মাসে তিনি ভারত সফর করে দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। গোরের মতে, তিনি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একসঙ্গে বহু আন্তর্জাতিক সফর করেছেন, এবং তিনি নিশ্চিত করেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে দৃঢ় বন্ধুত্ব বজায় আছে। যদিও মতবিরোধ থাকতে পারে, গোর উল্লেখ করেন, দুই নেতা শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছান। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, ট্রাম্পের ভারত সফর এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন জোটের পরিকল্পনা এবং ভারতের পূর্ণ সদস্যপদ আমন্ত্রণের ঘোষণার ফলে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। যদিও বাণিজ্যিক শুল্কের বিষয়টি এখনও উত্তেজনা বজায় রেখেছে, তবু প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা স্পষ্ট। গোরের বক্তব্য অনুসারে, জোটের মাধ্যমে উভয় দেশই সিলিকন, সেমিকন্ডাক্টর এবং এআই প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে অগ্রসর হবে, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দিল্লিতে গোরের এই ঘোষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পরবর্তী ধাপে, যদি ভারত পূর্ণ সদস্যপদ গ্রহণ করে, তবে জোটের কাঠামো ও কার্যপ্রণালী কীভাবে গড়ে উঠবে, তা নির্ধারণের জন্য দু’দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনার গতি গুরুত্বপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে, শুল্ক সংক্রান্ত বিরোধ সমাধান এবং বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্ত রূপদানও দু’দেশের সম্পর্কের স্থিতিশীলতা নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।

এই প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জোটের পরিকল্পনা এবং ভারতের সম্ভাব্য পূর্ণ সদস্যপদ উভয় দেশের কূটনৈতিক ক্যালেন্ডারে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। ভবিষ্যতে এই জোটের কার্যক্রম এবং ট্রাম্পের ভারত সফরের সময়সূচি কীভাবে গড়ে উঠবে, তা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ বিষয় হয়ে থাকবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments