বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ডিসেম্বর মাসে দেশের সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ এলাকায় পরিচালিত একাধিক অভিযানের মাধ্যমে মোট ১৫৫ কোটি ৫৯ লাখ ১১ হাজার টাকার চোরাচালান পণ্যসামগ্রী জব্দ করেছে। জব্দকৃত সামগ্রীর মধ্যে স্বর্ণ, পোশাক, কসমেটিক, ইলেকট্রনিক, কৃষি‑উৎপাদন এবং বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র‑মাদক অন্তর্ভুক্ত। বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এই তথ্য একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করেছেন।
অভিযানে প্রায় দুই কেজি স্বর্ণ, ১৪,৮৮৩টি শাড়ি এবং ২৬,১০০টি থ্রিপিস, শার্ট, চাদর ও কম্বল জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ২৬,৫২০টি তৈরি পোশাক, ৯,৮৮৩ মিটার থানকাপড় এবং ৪,৪৩,৬৪৬টি কসমেটিক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
ইমিটেশন গহনা হিসেবে ১৬,৯৫৪টি পিস, ৩৩,৮৬,৮৮২টি আতশবাজি এবং ১১,১১৯ ঘনফুট কাঠও জব্দের তালিকায় রয়েছে। তাছাড়া ৪,৬৩৯ কেজি চা পাতা, ১০,৯৯ কেজি সুপারি, ২৩,১৩০ কেজি কয়লা, ৭০৮ ঘনফুট পাথর ও ১৭৬ ঘনফুট বালু উদ্ধার করা হয়েছে।
প্লাস্টিক সামগ্রী ৪,৬৩৬টি, ইলেকট্রনিক পণ্য, ১৯১টি মোবাইল ফোন, ১,৫৩২টি মোবাইল ডিসপ্লে এবং ১৬,৪৭৩টি চশমা জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ৩৪,২৮১ কেজি জিরা, ৪,৭৮৭ কেজি চিনি, ১,৩৩,২৬ কেজি পিয়াজ ও ৬,০ কেজি রসুনও উদ্ধার করা হয়েছে।
বিভিন্ন প্রকারের বীজের ১,০৯৫ প্যাকেট, ৬,৫৭৫ কেজি সার, ৬১৫ প্যাকেট কীটনাশক এবং ৩১১ লিটার ডিজেলও জব্দের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। চকলেটের ২,২৬,১১১ পিস, ৮৬৫টি গরু‑মহিষ এবং একটি কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে।
যানবাহনের ক্ষেত্রে ৮টি ট্রাক‑কাভার্ড ভ্যান, ১৩টি পিক‑আপ, ১টি ট্র্যাক্টর, ৭টি প্রাইভেট‑কার‑মাইক্রোবাস, ২টি ট্রলি, ৬৯টি নৌকা, ২৫টি সিএনজি/ই‑বাইক, ৫৩টি মোটরসাইকেল এবং ৩৯টি বাইসাইকেল‑ভ্যান জব্দ করা হয়েছে।
অস্ত্রের তালিকায় ১২টি বিদেশি‑দেশীয় পিস্তল, ১টি রাইফেল, ৩টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ১৬টি ম্যাগাজিন, ৩৩৬ রাউন্ড গোলাবারুদ, ১টি মর্টার সেল, ১৭ কেজি গান পাউডার এবং ৬টি অন্যান্য অস্ত্র অন্তর্ভুক্ত।
মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে ৯,১১,৯৮২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৫৪ গ্রাম হেরোইন, ২,১০১ বোতল ফেনসিডিল, ৭ কেজি ৪৩৯ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ৮,৯৯৯ বোতল বিদেশি মদ এবং ২৭২.৫ লিটার বাংলা মদ জব্দ করা হয়েছে।
অতিরিক্তভাবে ১,২০৭ বোতল ক্যান বিয়ার, ১,৭৯৪ কেজি গাঁজা, ২,৩২,২৬৪ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট, ৩২,২১০টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট/ইনজেকশন, ৪,২১৭ বোতল ইস্কাফ সিরাপ এবং ২০,৮৪৮ বোতল বিভিন্ন প্রকার সিরাপও উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবি জব্দকৃত পণ্য ও মাদককে সংশ্লিষ্ট আইনগত বিভাগে হস্তান্তর করার পাশাপাশি তদন্ত চালিয়ে যাবে। জব্দকৃত অস্ত্র ও মাদকদ্রব্যের মালিকানা ও পরিবহন চেইন উন্মোচনের জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, জব্দকৃত সামগ্রী ও অস্ত্রের ওপর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হবে এবং আদালতে শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রমাণ সংগ্রহ অব্যাহত থাকবে।



