বায়ারআর্না স্টেডিয়ামে শনিবার রাতের টপস্পিল ম্যাচে স্টুটগার্ট ৪-১ স্কোরে বায়ার লেভারকুসেনকে পরাজিত করে। জার্মানির বিশ্বকাপ দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য এই জয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা শীর্ষ ফর্মে নিজেদের প্রমাণ করতে পারল।
স্টুটগার্ট ও লেভারকুসেনের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে; দু’দলই একে অপরের বিরুদ্ধে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ উপস্থাপন করেছে। এই ম্যাচটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ লেভারকুসেন এক দশক আগে এক্সপ্রেস লিফটের মাধ্যমে শীর্ষে উঠে এসেছে, আর স্টুটগার্ট কখনোই তাদের সামনে হোঁচট খায়নি।
স্টুটগার্টের সূচনাতেই সাতজন বর্তমান জাতীয় দলের খেলোয়াড় নিয়ে গঠিত এক শক্তিশালী এক্সআই মাঠে নামল। এই খেলোয়াড়দের উপস্থিতি দলের আক্রমণাত্মক সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় এবং বিশ্বকাপ নির্বাচনের আলোচনায় তাদের নাম উঁচু করে।
ম্যাচের সময় রুডি ভোলার উপস্থিতি বিশেষ দৃষ্টিনন্দন ছিল। ভোলার, যিনি পূর্বে লেভারকুসেনের খেলোয়াড় ও স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে প্রায় ২৫ বছর কাজ করেছেন, বর্তমানে জার্মান ফুটবলের ডিএফবির স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্বে আছেন এবং স্থানীয়ভাবে বায়ারআর্নায় ঘন ঘন দেখা যায়। তার উপস্থিতি ম্যাচের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল।
প্রথমার্ধে স্টুটগার্টের আক্রমণ দ্রুত গতি পায়। জেমি লিউয়েলিং, যাকে বর্তমানে উচ্চ চাহিদা রয়েছে, দু’বার গোল করে দলের স্কোরকে ৪-০ করে তুলেছে। তার প্রথম গোলটি দ্রুত পাসের পর দৌড়ে শেষ করে, আর দ্বিতীয়টি কোণার কিক থেকে সরাসরি শট দিয়ে সম্পন্ন হয়। লিউয়েলিংয়ের এই পারফরম্যান্স তাকে ম্যাচের নায়ক করে তুলেছে।
অর্ধেক বিরতির সময় স্কোর ৪-০ ছিল, যা লেভারকুসেনের জন্য বড় ধাক্কা। স্টুটগার্টের কোচ সেবাস্টিয়ান হোয়েনেসের কৌশলগত পরিবর্তন এবং খেলোয়াড়দের উচ্চ শারীরিক প্রস্তুতি এই ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখে। ভোলারও মন্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দুই বছর আগে লেভারকুসেন যখন শীর্ষে ছিল, তখনও স্টুটগার্টই একমাত্র দল ছিল যা সমানভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারত।
লেভারকুসেনের কোচ ক্যাসপার হ্যুলম্যান্ড, সেপ্টেম্বর থেকে শান্ত নেতৃত্বের প্রতীক, প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স নিয়ে ভাষা হারিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, “আমি যা ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করার জন্য যথেষ্ট যুক্তি খুঁজে পাচ্ছি না,” যা দলের অপ্রস্তুত অবস্থাকে প্রকাশ করে।
লেভারকুসেনের দলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় অনুপস্থিত ছিল। আফ্রিকান কাপ অফ নেশনসের জন্য কিছু খেলোয়াড় জাতীয় দলে অংশগ্রহণের কারণে মাঠে না আসতে পেরেছিলেন, আর প্যাট্রিক শিকের শেষ মুহূর্তে আঘাতের ফলে তিনি ম্যাচে অংশ নিতে পারেননি। এই অনুপস্থিতি দলকে আক্রমণাত্মক দিক থেকে দুর্বল করে তুলেছিল।
দ্বিতীয়ার্ধে লেভারকুসেন একবার গোল করতে সক্ষম হয়, তবে তা স্টুটগার্টের আধিপত্যকে বদলাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত স্কোর ৪-১ হয়ে দাঁড়ায়, যেখানে স্টুটগার্টের জয় তাদের আক্রমণাত্মক ধারাকে দৃঢ় করে এবং লেভারকুসেনের দুর্বলতা প্রকাশ করে।
এই জয় স্টুটগার্টের জন্য শুধু তিন পয়েন্ট নয়, বরং বিশ্বকাপের সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য আত্মবিশ্বাসের বুস্ট। দলটি এখন লিগের শীর্ষে আরো কাছাকাছি, আর লিউয়েলিংয়ের পারফরম্যান্স তাকে জাতীয় দলের তালিকায় শক্তিশালী অবস্থানে রাখবে। লেভারকুসেনের জন্য এই পরাজয় পুনর্গঠন এবং অনুপস্থিত খেলোয়াড়দের ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার সংকেত দেয়।



