ইন্ডিয়ান বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF) রাত ২:৩০ টার কাছাকাছি রৌমারী সাদার ইউনিয়নের খাটিয়ামারী সীমান্ত এলাকায় গুলি চালিয়ে একটি বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাটি উত্তর কুরিগ্রাম জেলায় ঘটেছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে গুলি চালানো ও ককটেল নিক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি তীব্র হয়ে ওঠে।
ধরা পড়া ব্যক্তি ২৫ বছর বয়সী মিস্টার আলি, রতনপুর গ্রাম থেকে, যাকে স্থানীয়দের মতে গোপন পথে পণ্য চোরাচালান করতে চেয়েছিল। তার নাম ও বয়স স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।
শফিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড-৪ সদস্য, জানান যে রাতে কয়েকজন চোরাচালানকারী ভারত থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন পণ্য আনার চেষ্টা করছিল। তিনি বলেন, BSF কর্মীরা গুলি চালিয়ে এবং ককটেল নিক্ষেপ করে চোরাচালানকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে মিস্টার আলিকে আটক করেছে।
জামালপুরের ৩৫ নম্বর বাংলাদেশ গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাসানুজ্জামান জানান, ঘটনাটি বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানার পর তারা BSF-কে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানার চেষ্টা করেছে, তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর পাওয়া যায়নি।
ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালান, অবৈধ পণ্য প্রবাহ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যাগুলি উভয় দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। পূর্বে একই অঞ্চলে অনধিক সংখ্যক গুলিবর্ষণ ও গ্রেফতার ঘটেছে, যা দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাধারণত সীমান্তে ঘটিত ঘটনাগুলিকে পারস্পরিক সম্মান ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানায়। এই ধরনের ঘটনা প্রায়শই উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক নোটিসের মাধ্যমে সমাধান হয়, যেখানে দুই দেশই সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবিক অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, রৌমারী-রতনপুর সীমান্ত অঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবে অবৈধ পণ্য ও মানব পাচারের গন্তব্যস্থল, এবং সাম্প্রতিক গুলিবর্ষণ উভয় দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা বাণিজ্যিক সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে যদি দ্রুত সমাধান না হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ গার্ড ও BSF-এর মধ্যে যৌথ তদন্তের প্রস্তাব করা হয়েছে, এবং ভবিষ্যতে সীমান্তে নিয়মিত সমন্বিত পেট্রোলিং চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, উভয় দেশের কূটনৈতিক চ্যানেল দিয়ে বিষয়টি উঁচু পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রত্যাশিত।
এই ঘটনার পরবর্তী উন্নয়নগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া মাত্রই জনসাধারণকে জানানো হবে। সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে দু’দেশের সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে।



