22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিঅন্তর্বর্তী সরকার এডিপি ১৩% কমিয়ে ২ লক্ষ কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ

অন্তর্বর্তী সরকার এডিপি ১৩% কমিয়ে ২ লক্ষ কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ

দিল্লি‑ঢাকা সংযোগকারী রেলওয়ের পাশে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকার চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ১৩.০৪ শতাংশ কমিয়ে ২ লক্ষ কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এডিপি হ্রাসের মূল কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত প্রকল্পের ঘাটতি এবং সরকারের নীতির ধীরগতিকে উল্লেখ করা হয়েছে।

বছরের অর্ধেকের কাছাকাছি সময়ে বাজেটের মোট পরিমাণ থেকে ৩০,০০০ কোটি টাকা বাদ দেওয়া হয়, যা মোট বরাদ্দের প্রায় তের দশমিক শূন্য চার শতাংশের সমান। মূল এডিপি ২.৩ লক্ষ কোটি টাকা নির্ধারিত থাকলেও, কাটছাঁটের পর তা ২ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে আসে।

এই পরিবর্তনটি জুন মাসে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গৃহীত একমাত্র বাজেটের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়। পূর্বে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন নীতি অনুসরণ করে গৃহীত মূল এডিপি, নতুন সরকারের নীতি ও বাস্তবায়ন ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ হ্রাস স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ঘটেছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে বরাদ্দ ৭৩ শতাংশ কমে, আর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা খাতে ৫৫ শতাংশ কাটছাঁট হয়েছে। এই দুই খাতের বাজেট হ্রাস দেশের মৌলিক সেবা প্রদান ক্ষমতাকে সরাসরি প্রভাবিত করবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।

এনইসি সভা আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস সভার সভাপতিত্ব করেন। সভার শেষে সংশোধিত এডিপি (আরএডিপি) অনুমোদন করা হয়, যা পরবর্তী মাসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে বরাদ্দের ভিত্তিতে কাজ শুরু করতে সক্ষম করবে।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সভায় জানান, মূল এডিপি ইতিমধ্যেই পূর্বের বছরের তুলনায় কম ছিল এবং বাস্তবায়ন হারও যথেষ্ট নিম্ন। তাই নতুন সরকারের অধীনে মূল এডিপি ২.৩ লক্ষ কোটি টাকা নির্ধারিত হয়, যা প্রকল্পের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়।

মাহমুদ আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত চাহিদা পূরণ করার পরও কিছু অর্থ অবশিষ্ট রয়ে যায়। তবে প্রকল্পের গুণগত মান ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে অপ্রয়োজনীয় বা অযোগ্য প্রকল্পগুলো বাদ দেওয়া হয়। অবশিষ্ট অর্থকে সমন্বয় করে শেষ পর্যন্ত আরএডিপি ২ লক্ষ কোটি টাকা নির্ধারিত হয়।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই বাজেট হ্রাস অন্তর্বর্তী সরকারের আর্থিক নীতি ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা পরীক্ষা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। পরবর্তী সময়ে সরকার কীভাবে অবশিষ্ট প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেবে এবং স্বাস্থ্য-শিক্ষা খাতে হ্রাসের প্রভাব কমাতে পদক্ষেপ নেবে, তা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে বড় প্রভাব ফেলবে।

সংক্ষেপে, চলতি অর্থবছরের এডিপি ১৩ শতাংশ কমিয়ে ২ লক্ষ কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, যার ফলে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ কাটছাঁট ঘটেছে। এনইসি অনুমোদিত এই নতুন বাজেটের বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো দেশের উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গিকে পুনর্গঠন করবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments