চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমানকে পুনরায় নিয়োগের সিদ্ধান্তের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়ন (CUCSU) আজ বিকেলে তার ভবনেই প্রতিবাদ জানায়। ছাত্র সংগঠনটি রোমানের সঙ্গে চাট্রা লীগ, যা বর্তমানে নিষিদ্ধ, তার সম্ভাব্য সংযোগের ভিত্তিতে পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতা করে।
প্রতিবাদের মূল বক্তব্যগুলো প্রকাশের জন্য CUCSU বিকাল ১টায় একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। সম্মেলনে ছাত্র ইউনিয়নের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম হোসেন রনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষককে ‘ফ্যাসিস্ট শাসনের সহযোগী’ বলে সমালোচনা করেন এবং উল্লেখ করেন যে, এসব শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদের দমন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের হেনস্থা এবং রাজনৈতিক দমনমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত।
রনি বলেন, রোমানসহ কিছু শিক্ষক চাট্রা লীগের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে, তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের পরেও এসব শিক্ষকের উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে।
সম্মেলনের পরে ছাত্র নেতারা একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে তারা ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি প্রক্রিয়া কোডের ধারা ৫৯ অনুযায়ী, কোনো অপরাধের দৃশ্যমান ঘটনার সময় ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে আটক করার অধিকারকে উল্লেখ করে নিজেদের কাজকে বৈধতা প্রদান করে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, CUCSU প্রতিনিধিদের ‘মব’ হিসেবে চিহ্নিত করা আইনগত ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রোমানের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে মামলা দায়েরের অনুরোধ বহুবার করা হলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে। CUCSU যখন পুলিশের স্টেশনে অভিযোগ দাখিলের চেষ্টা করে, তখন তা গ্রহণ করা হয়নি এবং কোনো রেকর্ড তৈরি হয়নি। ফলে, রোমানকে একই রাতে পুনরায় নিয়োগ করা হয়।
মিডিয়ায় ঘটনার ওপর ‘মব অ্যাকশন’ বা ‘হেনস্থা’ শব্দ ব্যবহার করা নিয়ে ছাত্র সংগঠন বিরোধিতা করে। তারা দাবি করে,现场 উপস্থিত সাংবাদিকদের ভিডিও ফুটেজে কোনো সহিংসতা বা ধাক্কা-ধাক্কি দেখা যায়নি। তাই, ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা অনুচিত বলে তারা তীব্রভাবে মন্তব্য করে।
প্রেস কনফারেন্সে সাইবার বুলিংয়ের সংগঠিত প্রচেষ্টা, নেতাদের ওপর হুমকি এবং মিডিয়ার পক্ষপাতপূর্ণ প্রতিবেদন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ছাত্ররা উল্লেখ করে, সামাজিক মাধ্যমে তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে অবৈধভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে, যা তাদের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে।
CUCSU এইসব অভিযোগের সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায় এবং রোমানের পুনর্বিন্যাসের ওপর পুনর্বিবেচনা করার দাবি করে। তারা একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার জন্য যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সংযোগের পুনর্মূল্যায়ন, পুনরায় নিয়োগের প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ছাত্র সংগঠনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আলোচনা বাড়ছে। শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ের পুনরাবৃত্তি রোধে নীতি নির্ধারণে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
বিষয়টি জাতীয় শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যেখানে শিক্ষার স্বায়ত্তশাসন ও ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের সুষ্ঠু সমন্বয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কীভাবে পদক্ষেপ নেবে তা দেশের শিক্ষাক্ষেত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে দাঁড়াবে।



