অধিনায়ক পবন কল্যাণ, অন্ধ্রপ্রদেশের উপমহামন্ত্রী ও চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক, জাপানের ঐতিহ্যবাহী তলোয়ার শিল্প কেনজুত্সুতে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এই স্বীকৃতি তার ত্রিশ বছরের বেশি সময়ের কঠোর প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও আত্মশিক্ষার ফল, যা সামুরাই নীতির ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
পবন কল্যাণের সাফল্য শুধুমাত্র রাজনীতিকের দায়িত্বে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি চলচ্চিত্রে অভিনেতা, লেখক, পরিচালক, স্টান্ট সমন্বয়কারী, নৃত্যনির্দেশক ও গায়ক হিসেবে বহু ভূমিকা পালন করেছেন। চলচ্চিত্র জগতের পাশাপাশি, তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের উপমহামন্ত্রী হিসেবে জনসাধারণের কাছে সরল ও মানুষের মঙ্গলকে অগ্রাধিকার দেয়া নেতা হিসেবে পরিচিত।
কেনজুত্সুতে অন্তর্ভুক্তির পটভূমি তার শৈশবের মার্শাল আর্টের সঙ্গে শুরু হয়। চেন্নাইতে তিনি কারাতে ও অন্যান্য যোদ্ধা শৈলীর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন, যেখানে শারীরিক দক্ষতা ও শৃঙ্খলা গড়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি জাপানি মার্শাল আর্টের দার্শনিক দিকেও মনোযোগ দেন, যেখানে আত্মনিয়ন্ত্রণ, নম্রতা ও সম্মানকে মূলমন্ত্র হিসেবে ধরা হয়।
এই দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টা শেষমেশ তাকে কেনজুত্সুতে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করে। পবন কল্যাণের সৃজনশীল সংস্থা “পবন কল্যাণ ক্রিয়েটিভ ওয়ার্কস” সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে তিনি তলোয়ার প্রশিক্ষণের কিছু দৃশ্য ও তার অনুপ্রেরণার কথা শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায় তিনি ঐতিহ্যবাহী তলোয়ার পরিচালনা, ধ্যান ও শারীরিক অনুশীলনকে একত্রে সংযুক্ত করে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
তার মার্শাল আর্টের জ্ঞান চলচ্চিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে। “থাম্মুদু”, “কুশি”, “অন্নবরম”, “ওজি” ইত্যাদি ছবিতে তিনি বাস্তবিক মার্শাল কৌশল ব্যবহার করে দর্শকদের কাছে ঐতিহ্যবাহী যুদ্ধশৈলীর স্বাদ এনে দিয়েছেন। এই ছবিগুলোতে তলোয়ার চালনা, আত্মরক্ষা পদ্ধতি ও শারীরিক চটপটে প্রদর্শন করা হয়েছে, যা সাধারণ দর্শকদের মধ্যে জাপানি মার্শাল আর্টের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তুলেছে।
পবন কল্যাণের এই অর্জনকে আন্তর্জাতিক মার্শাল আর্ট সংস্থাগুলোও স্বীকৃতি দিয়েছে। জাপানের সুপ্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী মার্শাল প্রতিষ্ঠান সোগো বুদো কানরি কাই তার দীর্ঘমেয়াদী অবদানের জন্য একটি সম্মানসূচক পুরস্কার প্রদান করেছে। এই পুরস্কারটি তার তলোয়ার শিল্পে অবদানের পাশাপাশি মার্শাল আর্টের সংস্কৃতি প্রচারে তার ভূমিকা স্বীকার করে।
কেনজুত্সুতে অন্তর্ভুক্তি পবন কল্যাণের জন্য একটি বিরল সম্মান, যা তার ব্যক্তিগত শৃঙ্খলা ও শিল্পের প্রতি নিবেদনকে প্রতিফলিত করে। তিনি নিজের কথায় উল্লেখ করেছেন যে, মার্শাল আর্টের মাধ্যমে তিনি শারীরিক ও মানসিক সমতা অর্জন করেন, যা তার রাজনৈতিক ও সৃজনশীল কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই স্বীকৃতি তাকে আরও বেশি মানুষকে শারীরিক প্রশিক্ষণ ও আত্মশৃঙ্খলার পথে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আশা করা যায়।
অধিকন্তু, পবন কল্যাণের এই অর্জন অন্ধ্রপ্রদেশের যুব সমাজের জন্য একটি উদাহরণস্বরূপ মডেল হয়ে দাঁড়াবে। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শিখিয়ে দেন যে, শারীরিক প্রশিক্ষণ ও মানসিক বিকাশ একসঙ্গে চললে ব্যক্তিগত ও সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব। ভবিষ্যতে তিনি এই দিকটি আরও বিস্তৃত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করতে পারেন, যা যুবকদের মধ্যে শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসের বিকাশ ঘটাবে।
সারসংক্ষেপে, পবন কল্যাণের কেনজুত্সু স্বীকৃতি তার ত্রিশ বছরের বেশি সময়ের কঠোর পরিশ্রম, চলচ্চিত্রে মার্শাল আর্টের ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মার্শাল আর্ট সংস্থার স্বীকৃতির ফল। এই অর্জন তার বহুমুখী পরিচয়কে আরও সমৃদ্ধ করেছে এবং মার্শাল আর্টের প্রতি জনসাধারণের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলেছে। তার উদাহরণ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আরও অনেক তরুণ শারীরিক প্রশিক্ষণ ও আত্মশৃঙ্খলার পথে অগ্রসর হতে পারে।



