23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅন্যান্যকাপাসিয়া বাজারে শীতের তাপে ১৩টি কুকুরছানা পায় স্থানীয়দের সহায়তা

কাপাসিয়া বাজারে শীতের তাপে ১৩টি কুকুরছানা পায় স্থানীয়দের সহায়তা

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা বাজারে শীতের তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুইটি স্ট্রে কুকুরের প্রাণ হারায়। মায়ের অনুপস্থিতিতে ১৩টি কুকুরছানা রাস্তায় একা বেঁচে থাকার ঝুঁকিতে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের জন্য খাবার ও উষ্ণতা সরবরাহের উদ্যোগ নেয়। এই মানবিক কাজটি শীতকালে প্রাণী রক্ষার গুরুত্বকে তুলে ধরে।

কুকুরছানাগুলো প্রথমবার কিচেন মার্কেট এলাকার খোলা স্থানে কাঁপতে কাঁপতে দেখা যায়। শীতের তাপের কারণে তারা শীতলতা ও দুর্বলতার শিকার ছিল। আশেপাশের মানুষগুলো তাদের অবস্থার দিকে নজর দেয় এবং সহায়তার হাত বাড়ায়।

কাপাসিয়ার খোদাদিয়া গ্রাম থেকে আসা ৪৫ বছর বয়সী কাঠের ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া প্রথমে কুকুরছানাগুলোকে দেখেন এবং তৎক্ষণাৎ যত্ন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তাদের জন্য চাল, মাছ ও মাংস দিয়ে খাবার সরবরাহ শুরু করেন। রুবেল একা সব ১৩টি কুকুরছানাকে সামলাতে পারছিলেন না, তাই ছয়টি নিজের বাড়িতে রাখেন এবং বাকি সাতটি বাজারের কাছাকাছি স্থানে রাখেন।

রুবেল জানান যে কুকুরের মা কাকে হত্যা করেছে সে সম্পর্কে তার কোনো তথ্য নেই, তবে মায়ের প্রাণ নেওয়া এবং ছোট কুকুরছানাকে একা রেখে যাওয়া নিষ্ঠুর কাজ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি কোনো দায়িত্ব আরোপ না করে কেবল প্রাণ রক্ষার দিকে মনোযোগ দেন।

বাজারের পাশে রাতের বেলা স্থানীয় রাঁধুনি মিলন মিয়া জুটির শীট দিয়ে কুকুরছানাগুলোকে ঢেকে রাখেন, যাতে তারা একসাথে গুঁথি বাঁধে এবং শীত থেকে রক্ষা পায়। শীটের নিচে গরম বাতাস আটকে থাকে, ফলে কুকুরছানাগুলো শীতের তাপ থেকে রক্ষা পায়।

অন্যান্য বাসিন্দারাও নিয়মিত খাবার নিয়ে আসেন এবং কুকুরছানাগুলোর স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখেন। তারা প্রায়ই তাদের অবস্থান পরীক্ষা করে এবং প্রয়োজনীয় যত্ন প্রদান করে। এই সমবায় প্রচেষ্টা কুকুরছানাগুলোর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

কাপাসিয়া বাজারের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জানান, এখন তারা সাতটি কুকুরছানার খাবার একসাথে ভাগ করে দিচ্ছেন এবং তাদের স্বাস্থ্যের উন্নতি লক্ষ্য করছেন। তিনি বলেন, কুকুরছানাগুলো বর্তমানে ভালো অবস্থায় আছে এবং শীতের তাপের প্রভাব কমে গেছে।

কাপাসিয়া উপজেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ.কে.এম. আতিকুর রহমান উল্লেখ করেন, স্ট্রে কুকুর, বিশেষ করে কুকুরছানা, হত্যা বা অপসারণ করা প্রাণী আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয়। তিনি জানান, অভিযোগ দায়ের করা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

স্থানীয়দের এই সমবায় উদ্যোগ শীতকালে প্রাণী রক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও মানবিক দায়িত্বের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আইনগত দিকের সচেতনতা বাড়িয়ে, ভবিষ্যতে অনধিকারী কাজের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments