তুরস্ক পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের আলোচনায় অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। এই চুক্তি, যা রিয়াদে সেপ্টেম্বর ২০২৩-এ স্বাক্ষরিত হয়, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ওপর আক্রমণকে সকলের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করে।
গোপন সূত্রের তথ্য অনুসারে, আলোচনাগুলি উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তুরস্কের আনুষ্ঠানিক যোগদান অত্যন্ত সম্ভাব্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইস্লামাবাদের প্রধানমন্ত্রী ও সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে এই চুক্তি ইতিমধ্যে শক্তিশালী নিরাপত্তা সহযোগিতা গড়ে তুলেছে।
তিন দেশের সমন্বয় দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকায় তুরস্কের বাড়তে থাকা স্বার্থের সঙ্গে পাকিস্তানের পারমাণবিক ক্ষমতা ও সৌদের আর্থিক শক্তিকে যুক্ত করবে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন তুরস্কের উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প ও যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এই জোটকে সম্পূরক করবে।
আঙ্কারা ভিত্তিক থিংক‑ট্যাঙ্কের একজন কৌশলবিদ যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সঙ্গে সঙ্গে তুরস্ক এই চুক্তিকে নিরাপত্তা ও প্রতিরোধের নতুন উপায় হিসেবে দেখছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তন ও অঞ্চলে ইসরায়েলের প্রতি জোর দেওয়া দেশগুলোকে নতুন বন্ধুত্ব ও শত্রুতার কাঠামো গড়ে তুলতে বাধ্য করছে।
সৌদের তেল‑নির্ভর অর্থনীতি বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট সরবরাহ করতে সক্ষম, আর পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিশাল সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে কৌশলগত গভীরতা যোগায়। তুরস্কের দিক থেকে উন্নত অস্ত্র প্ল্যাটফর্ম ও স্বদেশি প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতা এই জোটকে সামরিকভাবে শক্তিশালী করে।
বর্ধিত জোটটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও ইসরায়েলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলে উদ্ভূত নিরাপত্তা ফাঁক পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে। এই পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্য ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের শক্তি ভারসাম্যকে পুনর্গঠন করতে পারে এবং নতুন নিরাপত্তা মেকানিজমের উদ্ভব ঘটাতে পারে।
তুরস্কের তথ্য ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই আলোচনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তৎক্ষণাৎ যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় তাদের মতামত এখনও প্রকাশিত হয়নি।
যদি তুরস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করে, তবে তুরস্ক‑সৌদি সম্পর্কের নতুন যুগের সূচনা হবে, যা বছরের পর বছর চলা বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এই পদক্ষেপ অন্যান্য অ‑নাটো দেশগুলোর জন্যও নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন মডেল স্থাপন করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, পরবর্তী ধাপে দু’দেশের কূটনৈতিক আদান‑প্রদান এবং সম্ভবত এই বছরের শেষের দিকে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যা জোটের আইনি কাঠামোকে দৃঢ় করবে।
তুরস্কের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি অঞ্চলীয় ভূ-রাজনৈতিক গতিবিধিতে পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত প্রতিশ্রুতির মুখে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নতুন উপায় খুঁজছে।



