ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, দেশের অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভের পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানালেন। তিনি এই মন্তব্য সোমবার তেহরানের একটি বৈঠকে বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে উপস্থাপন করেন, যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা সত্ত্বেও আল জাজিরা সম্প্রচার করেছে।
আরাগচি উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া প্রতিবাদগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে সহিংস ও রক্তক্ষয়ী রূপে গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, এই পরিবর্তনটি কোনো স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত পদক্ষেপের ফল।
বৈঠকে উপস্থিত কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিশদে ব্যাখ্যা করেন। আরাগচি জানান, সরকার এখন পর্যন্ত বিক্ষোভ দমন করতে সক্ষম হয়েছে এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আক্রমণগুলো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তবে সংলাপের পথও খোলা রেখেছে। তিনি বলছেন, যদি কোনো সমঝোতা সম্ভব না হয়, তবে দেশকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে।
আগে আরাগচি বিক্ষোভকে “সন্ত্রাসী যুদ্ধ” বলে বর্ণনা করেন এবং জানান, সরকারী ভবন, পুলিশ স্টেশন এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে লক্ষ্যভেদী হামলা চালানো হচ্ছে। এই আক্রমণগুলোকে তিনি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পরিকল্পনা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালানোর নির্দেশের অডিও রেকর্ডিং পাওয়া গেছে। এই রেকর্ডিংগুলো তদন্তের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইরানের মুদ্রা অবমূল্যায়ন, বেকারত্বের বৃদ্ধি এবং মৌলিক পণ্যদ্রব্যের দামের উত্থান উল্লেখ করা হয়। প্রতিবাদকারীরা সরকারকে অর্থনৈতিক নীতি পুনর্বিবেচনা এবং জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৈঠকের পর আরাগচি তেহরানের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে বিক্ষোভের দমনের পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করার কথা জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমে কোনো ধীরগতি থাকবে না।
ইরানের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে, আরাগচির এই বক্তব্য বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কিছু বিশ্লেষক ইঙ্গিত করছেন, যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তবে ইরানের কূটনৈতিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, তেহরানের কিছু বিদেশি দূতাবাসের প্রতিনিধি আরাগচির মন্তব্যকে “প্রয়োজনীয় সতর্কতা” হিসেবে স্বীকার করেছেন, তবে তারা শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিক্ষোভের পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে সরকার এখনও স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি, তবে আরাগচি উল্লেখ করেছেন, সংলাপের দরজা বন্ধ নয়। তিনি বলছেন, যদি প্রতিবাদকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবিগুলো উপস্থাপন করে, তবে সরকার তা বিবেচনা করবে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে বিকশিত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যদি বিক্ষোভের দমনে অতিরিক্ত জোরপূর্বক পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়, তবে তা আরও অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, আরাগচির এই ঘোষণায় ইরানের সরকার বিক্ষোভের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়, তবে একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখছে। ভবিষ্যতে কী ধরনের নীতি গ্রহণ করা হবে, তা দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর নির্ভরশীল হবে।



