19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিককানাডার হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রোহিঙ্গা আন্তর্জাতিক আদালতে সাক্ষ্য দেবে

কানাডার হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রোহিঙ্গা আন্তর্জাতিক আদালতে সাক্ষ্য দেবে

ঢাকার কানাডিয়ান হাইকমিশন সোমবার জানিয়েছে যে, রোহিঙ্গা জনগণের তিনজন প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (ICJ) গ্যাম্বিয়া সরকারের পক্ষ থেকে মিয়ানমারকে গণহত্যা অভিযোগে দায়ী করার মামলায় সাক্ষ্য দেবেন। এই সাক্ষ্যদান আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান গণহত্যা মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে।

কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, যিনি বাংলাদেশে কানাডার কূটনৈতিক মিশন পরিচালনা করেন, রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছেন। হাইকমিশন এই সাক্ষাৎকারের বিবরণ প্রকাশ করে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

হাইকমিশনার অজিত সিং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সাহসিকতা ও দৃঢ়তার প্রশংসা করে বলেন, “আপনারা যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন তা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের পথে অগ্রগতি ঘটাবে।” তিনি কানাডার মানবাধিকার, জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা কানাডার সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জানান যে, কানাডার সহায়তা তাদের আন্তর্জাতিক ফোরামে কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করে তুলেছে। তারা উল্লেখ করেন, কানাডার নীতি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলো রোহিঙ্গা জনগণের মর্যাদা ও ন্যায়বিচার অর্জনে সহায়ক হয়েছে।

এই সাক্ষ্যদান গ্যাম্বিয়া ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে চলমান আইনি লড়াইয়ের অংশ, যেখানে গ্যাম্বিয়া ২০১৯ সালে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যা, অপরাধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি দেশ, যার মধ্যে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো, গ্যাম্বিয়ার মামলাকে সমর্থন করেছে।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সাক্ষীদের সরাসরি শোনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আদালত প্রমাণের ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারবে এবং মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য রায়ে প্রভাব ফেলতে পারে। “সাক্ষ্যদান প্রক্রিয়ায় সরাসরি বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের কণ্ঠ শোনা ন্যায়বিচারের স্বচ্ছতা বাড়ায়,” একজন আন্তর্জাতিক আইন বিশ্লেষক বলেন।

কানাডা, যা মানবাধিকার সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, রোহিঙ্গা জনগণের জন্য আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারকে ত্বরান্বিত করার জন্য বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। হাইকমিশনারের মন্তব্যে দেখা যায়, কানাডা রোহিঙ্গা জনগণের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা সাক্ষীদের উপস্থিতি আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত হবে এবং তা গ্যাম্বিয়ার মামলায় নতুন প্রমাণ উপস্থাপন করবে। আদালতের পরবর্তী সেশনগুলোতে মিয়ানমার সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং অতিরিক্ত প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ থাকবে।

কানাডি দূতাবাসের বিবৃতি অনুযায়ী, রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা সাক্ষ্যদানের প্রস্তুতি নিয়ে হাইকমিশনারের সঙ্গে নিরাপত্তা, লজিস্টিক এবং কূটনৈতিক সমর্থন নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই সমন্বয় রোহিঙ্গা জনগণের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি ও সমর্থন বাড়াতে সহায়তা করবে।

গ্লোবাল পর্যায়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার গোষ্ঠীর চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত, জাতিসংঘের মানবাধিকার উচ্চকমিশনার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি সকলেই রোহিঙ্গা জনগণের জন্য ন্যায়বিচার দাবি করছেন।

কানাডার এই কূটনৈতিক পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি তার দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। হাইকমিশনার অজিত সিং উল্লেখ করেন, “কানাডা রোহিঙ্গা জনগণের জন্য ন্যায়বিচার, দায়িত্বশীলতা এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সবসময় প্রস্তুত থাকবে।”

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments