সরকার ২০২৬ সালের জন্য মোট ২৮ দিনের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে, যা ১৪টি সাধারণ ছুটি ও ১৪টি নির্বাহী আদেশে নির্ধারিত ছুটি অন্তর্ভুক্ত করে। তালিকাটি সর্বশেষ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর জনসাধারণের প্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন হিসেবে জানানো হয়েছে।
এই ছুটিগুলোর মধ্যে ১১টি দিন সপ্তাহান্তের সঙ্গে মিলে যায়, ফলে সরকারী কর্মচারীরা ১৭টি পূর্ণ দিন বিশ্রাম উপভোগ করতে পারবেন। তালিকায় উল্লেখিত ছুটিগুলো দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতীয় অনুষ্ঠানকে সম্মান জানিয়ে সাজানো হয়েছে।
ইদ-উল-ফিতরের ছুটি পাঁচ দিন, ইদ-উল-আধার ছুটি ছয় দিন এবং ২০২৬ সালে দুর্গা পূজা দুই দিন হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। এই সময়সূচি পূর্ববর্তী বছরের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা কর্মচারীদের পরিকল্পনা সহজ করবে।
সরকারি ছুটির নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে রয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, এবং ১ মে মে দিবস, বুদ্ধ পূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা) ইত্যাদি। এই দিনগুলো জাতীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে।
নির্বাহী আদেশের আওতায় নির্ধারিত ছুটিগুলোতে ১৯-২০ মার্চ এবং ২২-২৩ মার্চ মোট চার দিন অন্তর্ভুক্ত, যা ইদ-উল-ফিতরের আগে ও পরে দু’দিন করে রাখা হয়েছে। এই ব্যবস্থা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছে।
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল ছুটির তারিখে প্রয়োজনমতো পরিবর্তন আনা হতে পারে, কারণ ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুসারে কিছু ছুটি চাঁদ দেখার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। তাই সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে সময়ে সময়ে আপডেটের সম্ভাবনা থাকবে।
কিছু সরকারি সংস্থা তাদের নিজস্ব আইন ও নিয়ম অনুযায়ী কাজের সময় ও ছুটির ব্যবস্থা নির্ধারণের অধিকার রাখে। এ ধরনের সংস্থাগুলো জনস্বার্থ বিবেচনা করে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে হবে।
সরকারি কর্মচারীরা নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে ঐচ্ছিক ছুটিও নিতে পারবেন, যা তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক চাহিদা মেটাতে সহায়তা করবে। এই বিকল্প ছুটিগুলো নির্দিষ্ট নির্দেশিকায় উল্লেখিত শর্তে প্রদান করা হবে।
এই ছুটির তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে সরকার কর্মশক্তির বিশ্রাম ও উৎপাদনশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি ধর্মীয় ও জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে। ভবিষ্যতে এই নীতিমালা অনুসরণ করে অতিরিক্ত ছুটি বা পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কর্মচারীরা তা দ্রুত জানার সুযোগ পাবে।
প্রকাশিত নোটিফিকেশন অনুযায়ী, সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে এই ছুটির তালিকা মেনে চলতে হবে এবং কর্মচারীদের যথাযথ অবকাশ নিশ্চিত করতে হবে। এই পদক্ষেপটি দেশের কর্মপরিবেশে স্বচ্ছতা ও পরিকল্পনামূলকতা বাড়াবে।



