শেরেবাংলা নগরে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন পরিচালিত আলোচনাসভায় ১২ জানুয়ারি সোমবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান শ্রমিক ইশতেহার বাস্তবায়নের দায়িত্বকে ক্ষমতায় আসা রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল বলে জোর দিয়ে বললেন।
বিএনপি নেতার মতে, দেশের শ্রমিক আন্দোলন ও তাদের স্বার্থ রক্ষায় দীর্ঘদিন কাজ করা সংগঠন ও ব্যক্তিদের সহায়তায় শ্রমিক ইশতেহার গৃহীত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে যে দল সরকার গঠন করবে, তাদেরই এই চুক্তি বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব নিতে হবে।
অধিকন্তু, ক্ষমতায় না আসা দলগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তারা ইশতেহার বাস্তবায়নে চাপ সৃষ্টি এবং সমর্থন প্রদান করে সরকারকে দায়বদ্ধ রাখতে পারে। এভাবে শ্রমিকদের দাবি ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
নজরুল ইসলাম খান শ্রমিকদের দেশের জনসংখ্যার বড় অংশ গঠন করার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে, রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য শ্রমিক গোষ্ঠীর গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থকে বিবেচনা না করলে কোনো রাজনৈতিক কৌশলই টেকসই হবে না।
বক্তা আরও উল্লেখ করেন, ইশতেহারে শ্রমিকদের যে চাহিদা ও প্রত্যাশা প্রকাশ পেয়েছে, সেগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই শ্রমিকদের তৃপ্তি ও দেশের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করবে।
এই বক্তব্যের পর, উপস্থিত অন্যান্য প্রতিনিধিরা শ্রমিক ইশতেহারের গুরুত্ব ও বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন, তবে প্রধান দৃষ্টিভঙ্গি নজরুল ইসলাম খানের মতেই ছিল। সকলেই একমত যে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা ও উন্নয়ন নীতি দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি।
বিএনপি নেতার এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন, আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল শ্রমিক নীতি ও ইশতেহার বাস্তবায়নে নির্ধারক ভূমিকা রাখবে। যদি নতুন সরকার শ্রমিক ইশতেহারকে কার্যকরী নীতি হিসেবে গ্রহণ করে, তবে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ, মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আশা করা যায়।
অন্যদিকে, যদি সরকার এই চুক্তিকে অগ্রাহ্য করে, তবে শ্রমিক গোষ্ঠী থেকে প্রতিবাদ ও চাপের সম্ভাবনা বাড়বে, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই শ্রমিক ইশতেহারকে রাজনৈতিক এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে দাঁড়াবে।
সারসংক্ষেপে, শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় নজরুল ইসলাম খান শ্রমিক ইশতেহার বাস্তবায়নের দায়িত্বকে ক্ষমতায় আসা দলগুলোর ওপর আরোপ করে, এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। এই বক্তব্য দেশের শ্রমিক নীতি ও রাজনৈতিক দায়িত্বের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে পুনরায় উজ্জ্বল করেছে।



