27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, ইন্টারনেট সংযোগ শিগগিরই পুনরায় চালু

ইরানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, ইন্টারনেট সংযোগ শিগগিরই পুনরায় চালু

ইরানের সরকার অর্থনৈতিক মন্দার প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় নিহতদের স্মরণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং একই সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ দ্রুত পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। শোককালটি রবিবার থেকে শুরু হবে এবং দেশের সরকারি টেলিভিশন এই বিষয়টি জানিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, বিক্ষোভে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের ‘শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে শোক পালন করা হবে, যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত। শোকের সময় সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয়ে মৃতদের পরিবারকে সমর্থন প্রদান করা হবে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যে ১০০‑এরও বেশি ব্যক্তি নিহত হয়েছে। বিরোধী গোষ্ঠী দাবি করে যে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি, এবং শত শত বিক্ষোভকারীও প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে।

বিরোধী দলের দাবি অনুসারে, মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা সরকারী প্রকাশের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যদিও সরকার এখনও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। উভয় পক্ষের তথ্যের পার্থক্য পরিস্থিতির জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয়ে ইন্টারনেট সংযোগ দ্রুত পুনঃসংযোগের কাজ চলছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে দূতাবাস এবং সরকারি মন্ত্রণালয়ের নেটওয়ার্কও শিগগিরই চালু হবে।

ইন্টারনেট পুনরায় চালু করার জন্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে, যাতে সংযোগের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল আন্তর্জাতিক যোগাযোগের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ তথ্য প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা।

আরাগচি এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের প্রতি সতর্কতা প্রকাশ করে বলেছেন, এই ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ বিক্ষোভকে আরও উত্তেজিত করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে বিদেশি হস্তক্ষেপের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বাড়তে পারে।

ইরান সরকার আগামীকাল, অর্থাৎ সোমবার, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সমর্থনে একটি জাতীয় বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছে। এই আহ্বানটি শোককালীন সময়ে দেশের ঐক্য ও সমর্থন জোরদার করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মাসউদ পেজেশকিয়ানও এই সময়ে মন্তব্য করে বলেছেন, সরকার অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে প্রস্তুত, তবে ‘দাঙ্গাবাজদের’ প্রতি কোনো সহনশীলতা দেখাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলছেন যে শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা অগ্রাধিকার।

বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে দেশের তীব্র অর্থনৈতিক সংকট উল্লেখ করা হচ্ছে, যেখানে মুদ্রা হ্রাস, বেকারত্বের বৃদ্ধি এবং মৌলিক পণ্যের দামের উত্থান জনগণের অসন্তোষের মূল চালিকাশক্তি। এই পরিস্থিতি সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

শোকের ঘোষণার পাশাপাশি ইন্টারনেট পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মোড় আনতে পারে। সংযোগ পুনরুদ্ধার হলে তথ্যের প্রবাহ স্বাভাবিক হবে, যা সরকারের নীতি ও জনমত গঠনে প্রভাব ফেলবে।

সামগ্রিকভাবে, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি শোক, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিল সমন্বয়ে গঠিত, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments