তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ১৭ মার্চ ২০২৫ তারিখে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, যার মাধ্যমে দেশের বিদেশি মিশনের প্রেস উইংয়ের চারজন কর্মকর্তা অবিলম্বে পদত্যাগ করে স্বদেশে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে যে, এই কর্মকর্তাদেরকে বর্তমান পদ ও কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ও কারণ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেনি, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ, দুবাই কনসুলেট জেনারেল অফিসের প্রথম সচিব (প্রেস) মো. আরিফুর রহমান, রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (প্রেস) আসাদুজ্জামান খান এবং টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (প্রেস) মো. ইমরানুল হাসানকে এই আদেশের আওতায় আনা হয়েছে। এই চারজন কর্মকর্তার পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে তাদের দায়িত্বের স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কর্মকর্তাদেরকে অবিলম্বে কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি নিতে হবে এবং স্বদেশে ফিরে আসতে হবে। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন পদে নিয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এই সময়সীমা পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবেশকে উল্লেখ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশে বাংলাদেশি মিশনের কার্যক্রমে কিছু সমন্বয় প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, যা এই পদক্ষেপের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা ত্রুটি উল্লেখ করেনি।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে এই আদেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্পষ্টতা চেয়েছেন এবং জিজ্ঞাসা করেছেন যে, এই পদক্ষেপের পেছনে কী ধরনের নীতি বা নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে। বিরোধীরা দাবি করেছেন যে, এমন বড় ধরনের কর্মী পরিবর্তন স্বচ্ছভাবে জানানো উচিত।
সরকারের পক্ষ থেকে এই উদ্বেগের উত্তর হিসেবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, প্রজ্ঞাপনের বিষয়বস্তু সম্পূর্ণভাবে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। তারা আরও উল্লেখ করেছে যে, কর্মকর্তাদের পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে মিশনের কার্যকারিতা ও যোগাযোগের মান উন্নত করা হবে।
এই পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনসুলেটের প্রেস কার্যক্রমে সাময়িক পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে কুয়ালালামপুর, দুবাই, রিয়াদ ও টোকিওতে চলমান মিডিয়া সম্পর্ক ও তথ্য প্রচারকাজে সাময়িক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তবে মন্ত্রণালয় আশ্বাস দিয়েছে যে, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দ্রুতই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
প্রত্যাহারকৃত কর্মকর্তাদের জন্য নতুন পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, নতুন নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত প্রার্থীদের মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে পূর্বে অনুরূপ পুনর্গঠন ঘটেছে, তবে এইবারের পুনর্গঠন বৃহত্তর মাত্রায় এবং একসাথে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পোস্টকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিখে মন্ত্রণালয় দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিবর্তন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছে।
সময়সীমা সংক্রান্ত দিক থেকে ১৫ কার্যদিবসের মেয়াদটি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। এই সময়সীমা কর্মকর্তাদেরকে যথাযথভাবে প্রস্তুত হতে এবং নতুন দায়িত্বের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।
বহিরাগত দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক নীতি সমন্বয়ের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া এই পরিবর্তনকে পর্যবেক্ষণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট মিশনের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়লে তা রিপোর্ট করবে।
মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করেছে যে, সকল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনর্বিন্যাস করা হবে। তারা আরও বলেছে যে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মিশনের প্রেস কার্যক্রমে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।
অবিলম্বে কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি নেওয়ার নির্দেশের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিবারিক ও ব্যক্তিগত দিকেও প্রভাব পড়তে পারে। মন্ত্রণালয় এই বিষয়টি বিবেচনা করে যথাযথ সমর্থন ব্যবস্থা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে মন্ত্রণালয় নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও অভিমুখন নির্ধারণ করবে। প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলোতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সারসংক্ষেপে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় চারজন বিদেশি প্রেস কর্মকর্তাকে অবিলম্বে পদত্যাগের আদেশ দিয়ে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে, এবং নতুন নিয়োগের মাধ্যমে মিশনের প্রেস কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করেছে। এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।



