ফিফা ৫ থেকে ৩০ জানুয়ারি ২০২৮ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে প্রথম নারী ক্লাব বিশ্বকাপের তারিখ ঘোষণা করেছে। কাতার এই নতুন টুর্নামেন্টের আয়োজক হিসেবে ফিফার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে, যা ২০২৭-২৮ মৌসুমে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের দেশীয় লিগে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
ফিফা টুর্নামেন্টের স্থান ও আনুষ্ঠানিক বিডিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া এই ইভেন্টের জন্য কাতার তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা ২০২২ সালের পুরুষ বিশ্বকাপের সফল আয়োজক দেশ হিসেবে তার ফিফার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ধারাবাহিকতা।
কাতার সম্প্রতি আল-রায়্যানে ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের আয়োজক ছিল, যেখানে প্যারিস সাঁ-জার্মেইন ফ্লামেংগোর বিরুদ্ধে জয়লাভ করে চ্যাম্পিয়ন শিরোপা জিতেছে। একইভাবে, মার্চ মাসে দুবাইতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পুরুষদের ফাইনালিসিমা, যেখানে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে।
গত বছর গার্ডিয়ান প্রকাশ করেছিল যে কাতার ২০২৯ সালে পুরুষ ক্লাব বিশ্বকাপের আয়োজকত্বের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। তবে ফিফা টুর্নামেন্টকে উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মে নির্ধারণ করার পর সেই পরিকল্পনা স্থগিত হয়েছে, এবং মরক্কো ও স্পেনকে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে সম্ভাব্য আয়োজক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কাতারে নারী ফুটবলের ইতিহাস তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত। ২০০৯ সালে ২০২২ বিশ্বকাপের বিডের অংশ হিসেবে নারী জাতীয় দল গঠন করা হয়েছিল, তবে তার পর থেকে ১২ বছর ধরে কোনো আনুষ্ঠানিক ম্যাচ খেলা হয়নি এবং ফিফা র্যাঙ্কিং-এ তাদের কোনো স্থান নেই। এই পরিস্থিতি কাতারে নারী ক্লাব বিশ্বকাপের আয়োজকত্বকে কিছু সমালোচনার মুখে ফেলেছে, বিশেষত দেশের এলজিবিটিকিউ+ অধিকার সংক্রান্ত নীতির কারণে।
কাতারের সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিফার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, প্রস্তুত স্টেডিয়ামের অবকাঠামো এবং শীতকালে উষ্ণ আবহাওয়া, যা জানুয়ারি মাসে টুর্নামেন্টের জন্য উপযোগী। গল্ফ অঞ্চলে এই সময়ে শীতের তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক, ফলে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবও সম্ভাব্য আয়োজক হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে, তবে দেশটি জানুয়ারি মাসে চারটি দলের স্প্যানিশ সুপার কাপের আয়োজকত্বে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা তার নিজস্ব ক্রীড়া ক্যালেন্ডারকে ব্যস্ত রাখে। ফলে গল্ফের অন্যান্য দেশ, বিশেষত কাতার, এই টুর্নামেন্টের জন্য বেশি সম্ভাবনা পায়।
যদি কাতার আয়োজক হয়, তবে ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এই টুর্নামেন্টের সমন্বয় করতে হবে, যা লিগ শিডিউল, প্লেয়ার রোটেশন এবং ট্রান্সফার উইন্ডোতে প্রভাব ফেলবে। ফিফা এখনো টুর্নামেন্টের নির্দিষ্ট ফরম্যাট ও অংশগ্রহণকারী ক্লাবের তালিকা প্রকাশ করেনি, তবে জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন হবে।
আসন্ন মাসগুলোতে ফিফা ও কাতার কর্তৃপক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে, যা টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ ও লজিস্টিক্সের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ দেবে। এই সিদ্ধান্তের পরই সংশ্লিষ্ট ক্লাব ও লিগগুলো তাদের সিজন পরিকল্পনা সমন্বয় করতে পারবে, এবং নারী ক্লাব ফুটবলের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রস্তুতি নিতে পারবে।



