ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার তেহরানে বিদেশি দূতাবাসের একটি সম্মেলনে জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের সন্ধান করছে না, তবে সামরিক সংঘর্ষের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশের কথা উল্লেখ করেন, যা তিনি দেশের প্রতিবাদ দমন সংক্রান্ত সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির পরের প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করেন।
আব্বাস আরাগচি তেহরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এই সম্মেলনে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, দেশের লক্ষ্য যুদ্ধ না করা, তবে যেকোনো সামরিক চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত থাকা। তিনি আরও যোগ করেন, ইরান আলোচনার দরজা খুলে রেখেছে, তবে সেই আলোচনাগুলো ন্যায়সঙ্গত, সমান অধিকার ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে হওয়া দরকার।
মন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান কোনো আক্রমণাত্মক কৌশল অনুসরণ করছে না, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমতা ও পারস্পরিক স্বীকৃতির ভিত্তিতে সমঝোতা গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি কোনো দেশ ইরানের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলে, তবে ইরান তার প্রতিরক্ষা ক্ষমতা ব্যবহার করতে প্রস্তুত থাকবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইরানীয় শাসনকে আলোচনার পথে আনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ট্রাম্পের মতে, ইরানীয় নেতারা প্রতিবাদ দমন সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির পর এখন শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে স্পষ্ট করে বলেন, যদি ইরান শান্তিপূর্ণ পথ অনুসরণ না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা রয়ে যাবে।
এই দ্বিপাক্ষিক বিবৃতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইরান যুদ্ধের ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখার কথা বলছে, যা তার নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রতিফলন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি এবং ইরানের আলোচনার ইচ্ছা উভয়ই কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা ও সীমা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন, এই ধরনের পারস্পরিক বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। ইরানের সামরিক প্রস্তুতি ও আলোচনার ইচ্ছা উভয়ই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের নীতি নির্ধারণে প্রভাবশালী হতে পারে, বিশেষ করে ইরান-ইস্রায়েল, ইরান-সৌদি সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও ইরানের প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোকে সক্রিয় করতে পারে, তবে একই সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
পরবর্তী পর্যায়ে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সরাসরি সংলাপের সম্ভাবনা দেখা যাবে। যদি উভয় পক্ষই পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে আলোচনায় এগিয়ে যায়, তবে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের পথ সুগম হতে পারে। তবে, কোনো এক পক্ষই সামরিক হুমকি প্রত্যাহার না করলে, পরিস্থিতি দ্রুতই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এই মুহূর্তে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের দিকনির্দেশনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ঘনিষ্ঠ নজরে রয়েছে। ভবিষ্যতে কী ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো এবং বৈশ্বিক শক্তি ভারসাম্যের ওপর প্রভাব ফেলবে। তাই, উভয় দেশের নেতৃত্বের পরবর্তী ঘোষণার দিকে দৃষ্টি রাখা জরুরি।



