আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ (আইসিটি-১) আজ ঢাকা শহরের আদালতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা সালমান এফ. রহমান এবং প্রাক্তন আইন মন্ত্রী আনিসুল হককে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়েরের মুখোমুখি করেছে। উভয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে জুলাই ২০২৪-এ ঘটিত বিদ্রোহের সঙ্গে যুক্ত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই মামলাটি তিন সদস্যের একটি প্যানেল দ্বারা পরিচালিত, যার প্রধান বিচারক হলেন বিচারপতি মো. গোলাম মরতুজা মজুমদার। প্যানেলটি পূর্বে রক্ষাকারী পক্ষের মুক্তি আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর দায়েরের প্রক্রিয়া চালিয়ে যায়।
রক্ষা দল দাখিল করা মুক্তি পিটিশনগুলোকে আদালত প্রত্যাখ্যান করে, ফলে মামলাটি অগ্রসর হওয়ার অনুমতি পায়। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি ছিল রক্ষাকারী পক্ষের দাবির যথেষ্ট ভিত্তি না থাকা।
প্যানেলের সদস্য শফিয়ুল আলম মাহমুদ দায়েরের সময় পাঁচটি পৃথক অভিযোগের তালিকা উপস্থাপন করেন এবং অভিযুক্তদেরকে গিল্টি বা নট গিল্টি সিদ্ধান্ত নিতে আহ্বান জানান।
প্রতিটি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতি সহায়তা, জনসাধারণের নিরাপত্তা লঙ্ঘন, এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন দিক। মোট পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে কিছুতে সরাসরি সহিংসতা এবং জননিরাপত্তা হুমকির উল্লেখ রয়েছে।
আদালতে উপস্থিত সালমান এফ. রহমান ও আনিসুল হক উভয়েই ‘দোষী নই’ বলে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করেন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য ট্রাইব্যুনালের ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন।
দায়েরের সময় প্যানেলটি উল্লেখ করে যে, আনুষ্ঠানিক অভিযোগের বিষয়বস্তু বিশ্লেষণের পর যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি সরবরাহ করে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে আদালত ১০ ফেব্রুয়ারি তারিখে উন্মুক্ত বিবৃতি এবং প্রসিকিউশন সাক্ষীদের ডিপোজিশন রেকর্ড করার সময়সূচি নির্ধারণ করেছে। এই তারিখে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবেন।
এই মামলাটি জুলাই ২০২৪-এ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিস্তৃত বিদ্রোহের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত, যেখানে সশস্ত্র সংঘর্ষ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা হুমকির রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছিল। ঐ সময়ের ঘটনাগুলি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে এবং ‘ক্রাইমস এগেইনস্ট হিউম্যানিটি’ হিসেবে চিহ্নিত অপরাধের জন্য উচ্চতর শাস্তি নির্ধারণের ক্ষমতা রাখে। এই ধরনের মামলায় প্রমাণের যথার্থতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বিশেষ গুরুত্ব পায়।
সালমান এফ. রহমান এবং আনিসুল হকের মতো উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগের দায়ের দেশের আইনি ব্যবস্থার স্বতন্ত্রতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই মামলাটি কীভাবে বিকশিত হবে তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
আইসিটি-১-এ নির্ধারিত পরবর্তী শুনানিগুলি উভয় পক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, যেখানে প্রমাণ উপস্থাপন এবং সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে মামলার মূল বিষয়গুলো পরিষ্কার হবে। আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের জন্য এই প্রক্রিয়া ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।



