যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কৌঁসুলি রপ্ত করেছে যে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত চালু হয়েছে। এই পদক্ষেপটি রোববার প্রকাশিত হয় এবং তদন্তের সূচনা সম্পর্কে পাওয়েল নিজেই বিবিসিকে জানিয়েছেন। তদন্তের পেছনে মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুদের হার কমানোর জন্য ধারাবাহিক চাপকে উপেক্ষা করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
পাওয়েল তদন্তের খবর জানার পর তা “নজিরবিহীন” বলে বর্ণনা করেন এবং যুক্তি দেন যে ফেডারেল রিজার্ভের স্বতন্ত্রতা বজায় রাখতে সুদের নীতি অর্থনৈতিক তথ্য ও বাজারের বাস্তব অবস্থার ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের নয়। তিনি যুক্তি দেন যে গণতন্ত্রের ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের প্রতি তার গভীর সম্মান রয়েছে এবং কোনো ব্যক্তি, এমনকি ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যানও, আইনের উপরে নয়।
পাওয়েলের সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধের শিকড় ২০১৭ সালে ফিরে যায়, যখন ট্রাম্পের মনোনয়নে তিনি ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান হন। তবুও দুজনের মধ্যে নীতি সংক্রান্ত মতবিরোধ দীর্ঘদিনের বিষয়, বিশেষ করে সুদের হার নিয়ে ট্রাম্পের দ্রুত হ্রাসের দাবি ও পাওয়েলের সতর্কতা। পূর্বে ট্রাম্প পাওয়েলকে ফেডের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন, যখন তিনি তার চাহিদা অনুযায়ী সুদের হার কমাতে ব্যর্থ হন।
রোববার এনবিসি নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তদন্ত সম্পর্কে জানেন না বলে জানান এবং পাওয়েলের কাজের দক্ষতা নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে পাওয়েল ফেডে তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন না এবং এমনকি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেও তার পারদর্শিতা প্রশ্নবিদ্ধ। এই মন্তব্যগুলো তদন্তের রাজনৈতিক পটভূমি আরও উন্মোচিত করে।
যদিও তদন্তের খবর প্রকাশিত হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও হোয়াইট হাউস থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের প্রকৃতি ও পরিধি সম্পর্কে স্পষ্টতা না থাকলেও, ফেডারেল রিজার্ভের স্বতন্ত্রতা ও নীতি নির্ধারণের স্বাধীনতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
পাওয়েল ২০১৭ সালে ট্রাম্পের সমর্থনে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন, তবে তার মেয়াদে সুদের হার নীতি নিয়ে দুজনের মতবিরোধ তীব্রতর হয়েছে। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির শেষের দিকে, বিশেষ করে ২০২৩ সালের শেষের দিকে, ফেডারেল রিজার্ভ তিনবার সুদের হার কমিয়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ট্রাম্প ও তার উত্তরসূরি জো বাইডেন উভয়ই মুদ্রাস্ফীতি ও ব্যয়বৃদ্ধির দায় স্বীকার করে সুদের হার নীতি সমালোচনা করেছেন।
এই তদন্তের ফলে ফেডারেল রিজার্ভের স্বতন্ত্রতা ও নীতি নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করছেন। যদি তদন্তের ফলাফল পাওয়েলের বিরুদ্ধে প্রমাণ সরবরাহ করে, তবে ফেডের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হতে পারে, যা আর্থিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, তদন্তের ব্যর্থতা বা বাতিল হওয়া ফেডের স্বায়ত্তশাসনকে পুনর্বলিত করতে পারে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে রেজিলিয়েন্স বাড়াতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক নীতি ও রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে জটিল সম্পর্ককে উন্মোচিত করেছে। তদন্তের অগ্রগতি, বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত এবং ফেডের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারের ওপর প্রভাব ফেলবে।



