28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমিয়ানমার প্রো-সেনা পার্টি সু কির আসন জয় দাবি করেছে

মিয়ানমার প্রো-সেনা পার্টি সু কির আসন জয় দাবি করেছে

মিয়ানমার প্রধান প্রো-সেনা দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (USDP) সোমবার কাওহমু নির্বাচনী এলাকা, যেখানে ডেমোক্র্যাটিক নেতা অং সান সু কির পূর্বে আসন ছিল, সেখানে জয়ী হওয়ার দাবি জানায়। এই দাবি দেশের চলমান এক মাসব্যাপী নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্যায়ের ফলাফলের অংশ, যার শেষ রাউন্ড ২৫ জানুয়ারি নির্ধারিত।

সু কির এখনও গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন এবং তার জনপ্রিয় ন্যাশনাল লিগ (NLD) পার্টি বাতিল করা হয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গণতন্ত্র সমর্থকরা এই ভোটকে সেনাবাহিনীর শাসন বজায় রাখতে পরিচালিত একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন।

USDP-র একজন কর্মকর্তা, যিনি নাম প্রকাশ না করে কথা বলছেন, কাওহমু এবং ইয়াঙ্গন অঞ্চলের অন্যান্য বহু নির্বাচনী এলাকায় পার্টি জয়ী হয়েছে বলে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ইয়াঙ্গন অঞ্চলের ১৬টি নিম্নসভার আসনের মধ্যে ১৫টি জয়ী হয়েছে, যদিও সুনির্দিষ্ট ভোটের পার্থক্য প্রকাশ করা হয়নি।

এখনো দ্বিতীয় রাউন্ডের আনুষ্ঠানিক ফলাফল নির্বাচন কমিশন থেকে প্রকাশিত হয়নি, যা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা সংস্থা। প্রথম পর্যায়ে USDP প্রায় ৯০ শতাংশ নিম্নসভার আসন জয় করেছে বলে সরকারী তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ টম অ্যান্ড্রুয়েসের মতে, সামরিক শাসন এই নির্বাচনের মাধ্যমে নিজের প্রভাবকে দৃঢ় করতে চায় এবং বৈধতা অর্জনের জন্য একটি ভুয়া প্রক্রিয়া গড়ে তুলেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে ভোটের সময় সহিংসতা ও দমনমূলক নীতি অব্যাহত রয়েছে।

সামরিক শাসকরা দাবি করেন যে এই ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরে যাবে, যদিও বাস্তবে সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত আসন এখনও উল্লেখযোগ্য। নির্বাচনের চূড়ান্ত রাউন্ডে পার্টিগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হবে, তবে সেনাবাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকা USDP-র সুবিধা বজায় থাকবে।

সু কিরের দল, NLD, এখনো পুনর্গঠন করা হয়নি এবং তার রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমাবদ্ধ। তার গৃহবন্দি অবস্থার ফলে তার সরাসরি অংশগ্রহণ সম্ভব নয়, ফলে তার সমর্থকদের জন্য ভোটের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বৈধতা অর্জনের জন্য সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কিছু দেশ ও মানবাধিকার সংস্থা এই ভোটকে ‘মিথ্যা’ ও ‘প্রচারমূলক’ হিসেবে সমালোচনা করেছে।

যদিও ভোটের ফলাফল এখনও সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়নি, তবু USDP-র জয়ী হওয়ার দাবি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সেনাবাহিনীর সমর্থকরা এই ফলাফলকে তাদের শাসনকে বৈধতা প্রদানকারী হিসেবে উপস্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, গণতন্ত্রের পক্ষে থাকা গোষ্ঠীগুলি ভোটের ফলাফলকে অবৈধ বলে গণ্য করে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা উত্থাপন করেছে।

নির্বাচনের শেষ রাউন্ডে পার্টিগুলোর পারফরম্যান্স এবং ভোটারদের অংশগ্রহণের মাত্রা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত পার্লামেন্টের এক চতুর্থাংশ আসন কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা দেশের শাসন কাঠামোর উপর প্রভাব ফেলবে।

সামরিক শাসনের সমর্থকরা দাবি করেন যে এই ভোটের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, যদিও সমালোচকরা এটিকে এক ধরনের ‘বৈধতা গড়ে তোলার কৌশল’ হিসেবে দেখছেন।

সামগ্রিকভাবে, বর্তমান ভোট প্রক্রিয়া মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিবেশে গভীর বিভাজন সৃষ্টি করেছে এবং পরবর্তী রাউন্ডের ফলাফল দেশের শাসনব্যবস্থার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments