মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে তিনি ভেনেজুয়েলার অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে অনলাইন পোস্টে ঘোষণা করেন। পোস্টে তিনি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যুক্ত করে, তার অধীনে ভেনেজুয়েলা পরিচালনার পরিকল্পনা উল্লেখ করেন। এই দাবি ভেনেজুয়েলা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে তীব্র প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়েছে।
ট্রাম্পের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি ২০ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ক্ষমতায় আসবেন এবং তার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেডি ভ্যান্সের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভেনেজুয়েলার সরকারি ওয়িকিপিডিয়া পৃষ্ঠায় ট্রাম্পের এমন কোনো পদবী বা ভূমিকা উল্লেখ নেই, এবং কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা তার দাবিকে স্বীকৃতি দেয়নি।
এই ঘোষণার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ রয়েছে, যেখানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে বিচারাধীন করা হয়েছে। মাদুরো এই কাজকে ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এ বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।
মাদুরোর এই গ্রেপ্তারকে চীন, রাশিয়া, কলম্বিয়া এবং স্পেনের সরকার আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
কারাকাসে সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরে ট্রাম্প নিরাপত্তা উদ্বেগ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে অস্থায়ীভাবে পরিচালনা করবে বলে ঘোষণা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংস্থাগুলোর তত্ত্বাবধানের অধীনে দেশের তেল উৎপাদনকে বিশ্ববাজারে বিক্রি করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
ভেনেজুয়েলার সরকারী কাঠামোতে মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রত্যাখ্যান করে, মাদুরোর মুক্তি দাবি করেন এবং নিজেকে দেশের বৈধ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেন।
ট্রাম্প রদ্রিগেজকে সতর্ক করে জানান, যদি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা না করেন তবে তাকে ‘খুব বড় মূল্য’ দিতে হতে পারে। তিনি রদ্রিগেজের পরিণতি মাদুরোর চেয়েও খারাপ হতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেন।
ট্রাম্পের পোস্টে ভেনেজুয়েলার কিছু রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তি ঘটার পর তিনি নিজেকে কৃতিত্বের স্বীকৃতি দেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে এই তথ্য শেয়ার করে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা তুলে ধরেছেন।
হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেল কোম্পানিগুলোর সিইওদের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প দেশীয় তেল উৎপাদন বাড়াতে ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে বিশাল আর্থিক সহায়তা প্রদান করে দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনকে ত্বরান্বিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ট্রাম্প অস্থায়ী ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে পাঁচ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষর করার প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই সরবরাহ অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত চলবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের তেল বিক্রির আয় দেশীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হবে।
এই চুক্তির ভিত্তিতে ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে তেল বিক্রির আয় যুক্তরাষ্ট্রে রাখা হবে বলে নির্দেশ দেন। এই পদক্ষেপটি ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক লাভ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখে।
ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই নতুন ক্ষমতা ও সম্পদ ভাগাভাগির কাঠামো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জটিল রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করছেন। ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের পরিণতি পরবর্তী মাসে কী রকম হবে তা নজরে থাকবে।
ভেনেজুয়েলার সরকার রদ্রিগেজের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক আইনি চ্যানেলে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংস্থাগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে। ভবিষ্যতে এই দ্বিমুখী সম্পর্কের দিকনির্দেশনা উভয় দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।



