রংপুরের রাজনৈতিক মঞ্চে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনের কোরবানির মন্তব্যের প্রতি কোনো প্রতিবাদ না করা নিয়ে পার্টির প্রাক্তন যুগ্ম আহ্বায়ক তাসনূভা জাবীন তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাসনূভা তার স্ব-প্রমাণিত ফেসবুক প্রোফাইলে লিখে জানান, আখতার হোসেনের এই নীরবতা পার্টির অভ্যন্তরে প্রশ্ন তুলেছে।
আখতার হোসেনের মন্তব্যের মূল সূত্র রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খান। ৮ জানুয়ারি কদমতলা, পীরগাছা উপজেলার একটি মতবিনিময় সভায় তিনি রংপুর-৪ (কাউনিয়া‑পীরগাছা) আসনের আখতার হোসেনের সঙ্গে আসন সমঝোতার বিষয়টি “হজরত ইব্রাহিম (আ.)‑এর কোরবানির চেয়েও বড় কোরবানি” বলে উল্লেখ করেন। সভার সময় আখতার হোসেনও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
এই ঘটনার পর তাসনূভা জাবীন ফেসবুকে একটি পোস্টে লিখেছেন, আখতার হোসেন হয়তো এই পোস্টটি দেখলে মন খারাপ করবে বা রাগে ভরে যাবে, কারণ তিনি সাধারণত পছন্দের মানুষের কাছ থেকে বেশি প্রত্যাশা করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পছন্দের ব্যক্তিরা কষ্ট দিতে পারে, অন্যদের তুলনায় বেশি ধোঁকা দিতে পারে। তাসনূভা এই মন্তব্যকে আখতার হোসেনের নীরবতার প্রতি সরাসরি সমালোচনা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
আখতার হোসেনের মন্তব্যের পেছনে মূল বিষয় হল রংপুরের দুই বড় পার্টির (এনসিপি ও জামায়াত) মধ্যে আসন সমঝোতা, যা স্থানীয় নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ টি এম আজম খান এই সমঝোতাকে ধর্মীয় কোরবানির সঙ্গে তুলনা করে উল্লেখ করেন, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে সমঝোতার গুরুত্বকে জোরদার করে। তাসনূভা জাবীনের মতে, আখতার হোসেনের নীরবতা পার্টির ভিতরে সমঝোতার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
এই ঘটনার ফলে এনসিপি অভ্যন্তরে সম্ভাব্য বিভাজন ও নেতৃত্বের পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। তাসনূভা জাবীন তার পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, পছন্দের মানুষের কাছ থেকে প্রত্যাশা বেশি হওয়ায় তারা বেশি দায়িত্বশীল এবং ভুল করলে বেশি ক্ষতি করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি আখতার হোসেনের নীরবতাকে পার্টির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নে রূপান্তরিত করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, রংপুরের এই সংঘাতের প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পার্টির গঠন ও জোটের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এনসিপি যদি এই বিষয়টি সমাধান না করে, তবে স্থানীয় সমর্থকদের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়তে পারে, যা পার্টির ভোটের ভিত্তিকে দুর্বল করতে পারে। অন্যদিকে, জামায়াতের এ টি এম আজম খান এই সমঝোতাকে ধর্মীয় কোরবানির সঙ্গে তুলনা করে তার রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন।
তাসনূভা জাবীন তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, আখতার হোসেনের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পার্টির অভ্যন্তরে প্রত্যাশা ও দায়িত্বের ভার বাড়বে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে এমন সমঝোতা ও মন্তব্যের ক্ষেত্রে পার্টির নেতৃত্বকে আরও সতর্ক ও স্বচ্ছ হতে হবে।
এ পর্যন্ত আখতার হোসেনের পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তাসনূভা জাবীনের প্রকাশিত পোস্টের পর পার্টির অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকে সমর্থন বা বিরোধের কোনো প্রকাশও দেখা যায়নি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা অনুমান করছেন, এই বিষয়টি পার্টির অভ্যন্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে এবং ভবিষ্যতে পার্টির কৌশলগত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
সংক্ষেপে, রংপুরের এই রাজনৈতিক বিতর্কে এনসিপি ও জামায়াতের পারস্পরিক সমঝোতা, কোরবানির তুলনা এবং পার্টির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের প্রত্যাশা প্রধান বিষয় হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছে। তাসনূভা জাবীন আখতার হোসেনের নীরবতাকে সমালোচনা করে পার্টির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন, যা ভবিষ্যতে পার্টির কৌশলগত দিকনির্দেশে প্রভাব ফেলতে পারে।



